দৃশ্যকল্প-১ তথা এরিস্টটলের ধারণার চেয়ে দৃশ্যকল্প-২ তথা আই. এম. কপির বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বেশি স্পষ্টতর হয়েছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
দৃশ্যকল্প-২ তথা যুক্তিবিদ আই. এম. কপি যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞায় বলেন, "যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি ও নীতিসমূহের একটি বিশিষ্ট বিদ্যা।" আমরা জানি, বৈধ ও অবৈধ যুক্তির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে হলে সংশ্লিষ্ট যুক্তির নিয়মাবলি জানা থাকা দরকার। আর যুক্তিবিদ্যা এসব নিয়মাবলি প্রণয়ণ করে। তার মতে, যুক্তিবিদ্যা একদিকে যেমন যুক্তির নিয়মাবলি প্রণয়ণকারী একটি তাত্ত্বিক বিজ্ঞান, অন্যদিকে তাদের প্রয়োগকারী একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান বা কলা। তাই তার সংজ্ঞায় যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
দৃশ্যকল্প-১ তথা এরিস্টটলের ধারণায় শুধু যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান স্বরূপ বা বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পেয়েছে। আর দৃশ্যকল্প-২ তথা আই. এম. কপির বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলা উভয় প্রকার স্বরূপেরই প্রকাশ ঘটেছে। প্রকৃতির কোনো বিভাগ সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে। বিজ্ঞান' সাধারণত নিয়মাবলির তত্ত্বগত জ্ঞান দান করে। আর কলাবিদ্যা এ তত্ত্বগত জ্ঞান বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে শেখায়। অর্থাৎ বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি শিক্ষা দেয়। যুক্তিবিদ্যাও বিজ্ঞান হিসেবে বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি প্রণয়ন করে এবং কলা হিসেবে তা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের শিক্ষা দেয়।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ তথা এরিস্টটলের ধারণায় শুধু যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানগত দিক এবং দৃশ্যকল্প-২ এ আই. এম. কপির বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলা উভয় প্রকার স্বরূপের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ ঘটায় কপির বক্তব্যটি অধিক যুক্তিযুক্ত।