উদ্দীপকে উল্লিখিত এরিস্টটল, আল-ফারাবি, আল-বেইন ও কান্টকে 'যুক্তিবিদ্যার প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ এবং সাম্প্রতিক যুগের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুগের যুক্তিবিদ্যার যে বিশাল পরিসর সেটি প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের যোগসূত্রেরই ফলাফল। প্রাচীন যুগে এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যার যে আকারগত দিক নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তা ছিল যুক্তিবিদ্যার অভাবনীয়, অকল্পনীয় এক নব অধ্যায়ের সূচনা। তিনি যুক্তিবিদ্যার অভেদ নিয়ম, বিরোধ নিয়ম, সহানুমান, বিধেয়ক, সংজ্ঞা ইত্যাদি নিয়ে যে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন প্রাচীন যুগে, মধ্যযুগে এসে আল-ফারাবি সেসবের আলোচনার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছিলেন।
আধুনিক যুগে একদল যুক্তিবিদ এরিস্টটলের গতানুগতিক যুক্তিবিদ্যা থেকে বের হয়ে এসে আরো নতুন মাত্রা যোগ করেন। যা ছিল যুক্তিবিদ্যার ইতিহাসে আরো একটি নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা। যেখান থেকে আরোহ পদ্ধতি এবং বিজ্ঞানের শাখা-প্রশাখার সৃষ্টি হয়। যুক্তিবিদ বেইন ছিলেন এদের মধ্যে অন্যতম। আধুনিক যুগের আলোচনার সূত্রপাত ধরেই সাম্প্রতিক যুগে প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা, গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার জন্ম হয় এবং সাম্প্রতিক যুগের মধ্যে কান্ট অন্যতম। তিনি যুক্তিবিদ্যাকে একটি স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে চারটি স্তরে যুক্তিবিদ্যার পরিবর্তন ও বিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। যা দীর্ঘ আড়াই হাজার বছরে পর্যায়ক্রমে বর্তমান রূপ লাভ করেছে।