'অ' কলেজের ২৫ বছর দ্বারা যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের প্রাচীন যুগকে নির্দেশ করা হয়েছে। কেননা উদ্দীপকের প্রক্রিয়ায় '২৫' বছর' প্রথম স্থানে রয়েছে। প্রাচীন যুগের একজন যুক্তিবিদ হিসেবে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের ধারণা বিশ্লেষণ করা হলো-
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, চিন্তার আকার ও উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করা যুক্তিবিদ্যার কাজ। তার মতে, জ্ঞান আহরণের ভিত্তি হলো চিন্তা। তাই চিন্তা পদ্ধতি সঠিক না হলে যথার্থ জ্ঞান অন্বেষণ করা সম্ভব নয়। এই কারণে চিন্তা প্রক্রিয়াকে সঠিক করার জন্য একটি স্বতন্ত্র্য বিদ্যা বা বিজ্ঞান প্রয়োজন। আর যুক্তিবিদ্যা হলো সেই চিন্তাকে সুশৃঙ্খল করার একটি বিদ্যা। এদিক থেকে এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। তিনি চিন্তা পদ্ধতির চারটি মৌলিক নিয়মের কথা বলেছেন যা যৌক্তিক চিন্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
যুক্তিবিদ্যায় এরিস্টটলের শ্রেষ্ঠ অবদান হলো সহানুমান সম্বন্ধে ধারণা প্রবর্তন। সহানুমানে যুক্তির বৈধতা বিচারের জন্য এরিস্টটল একটি সূত্র উদ্ভাবন করেন যা এরিস্টটলের সূত্র (Aristotle's Dictum) নামে পরিচিত। সূত্র অনুসারে একটি শ্রেণি সম্বন্ধে কোনো তথ্য সত্য হলে তা ঐ শ্রেণির অন্তর্গত যে কোনো ব্যক্তি বা বস্তু সম্বন্ধে সত্য হবে। আবার, কোনো শ্রেণি সম্পর্কে তা অসত্য হলে তা ঐ শ্রেণির অন্তর্গত যে কোনো ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে অসত্য হবে। এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে একটি বিজ্ঞান বলে মনে করেন। তার মতে, প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের আবশ্যিক পদ্ধতি প্রদানকারী বিদ্যা হলো যুক্তিবিদ্যা।
পরিশেষে বলা যায়, এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞা প্রদান এবং চিন্তা পদ্ধতির আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এ কারণে প্রাচীন যুগের এ দার্শনিককে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়।