উদাহরণ-১ ও ৩ এ উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে উদাহরণ-১ এ উল্লেখিত শব্দগুলো 'পদযোগ্য শব্দ' কিন্তু উদাহরণ- ৩ এর শব্দগুলো সহ-পদযোগ্য শব্দ।
যুক্তিবিদ্যায় পদ বলতে সেসব শব্দ বা শব্দ সমষ্টিকে বোঝায় যা যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় বা হতে পারে। এ কারণে যে শব্দ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয় তাকে 'পদযোগ্য শব্দ' বলে। যেমন- উদাহরণ-১ এ উল্লেখিত 'চাঁদ, সুন্দর, দুধ' পদগুলি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এ ধরনের শব্দ পদ হওয়ার যোগ্য।
অন্যদিকে, উদাহরণ-৩ এ উল্লেখিত 'টি, টা, খানা, খানি' শব্দগুলো অন্য শব্দের সাহায্য নিয়ে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে এসব পদ সহ-পদযোগ্য শব্দ। কারণ যেসব শব্দ স্বাধীনভাবে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না কিন্তু অন্য শব্দের সাহায্য নিয়ে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে তাকে সহ-পদযোগ্য শব্দ বলে।
পরিশেষে বলা যায়, পদ হওয়ার যোগ্যতা বা অযোগ্যতার ভিত্তিতে শব্দকে তিনভাগে ভাগ করা যায়, যার দুইটি হলো 'পদযোগ্য শব্দ' এবং 'সহ-পদযোগ্য শব্দ'। উভয়ের মধ্যে যোগ্যতার ভিন্নতা রয়েছে। এ কারণে উদাহরণ-১ ও ৩ এ উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।