উদ্দীপকে অধ্যক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার কলা ও বিজ্ঞানের দিক নির্দেশিত হয়েছে। আর যুক্তিবিদ্যার প্রকৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুক্তিবিদ্যা কলা ও বিজ্ঞান উভয়ই।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন, প্রকৃত জ্ঞানচর্চার জন্য ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকের সাথে শিখন কৌশলও অবলম্বন করতে হয়। এ বক্তব্যের মাধ্যমে কলা ও বিজ্ঞানের দিকটি নির্দেশিত হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার মধ্যে কলা ও বিজ্ঞান উভয় দিকই বিদ্যমান রয়েছে। বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু রয়েছে। রয়েছে সুশৃঙ্খল আলোচনা পদ্ধতি। অর্থাৎ, যুক্তিবিদ্যা তার বিষয়বস্তুকে সুশৃঙ্খলভাবে আলোচনা করে। বিজ্ঞান যেমন সাধারণ নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করে এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সূত্র প্রবর্তন করে, যুক্তিবিদ্যাও তেমনি বৈধ ও অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য কিছু নিয়ম নির্ধারণ করে। এসব দিকের বিবেচনায় যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান বলে অভিহিত করা যায়। আবার, কলাবিদ্যা হলো কোনো বিশেষ জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করা। যুক্তিবিদা আকারগত বিজ্ঞান হিসেবে বৈধ যুক্তির কিছু নমুনা প্রদান করে। আবার, যুক্তিবিদ্যা বৈধ ও অবৈধ যুক্তির পার্থক্যকরণের জন্য কিছু নিয়মকানুন শিক্ষা দেয়। যুক্তির এসব নমুনা ও নিয়মকানুন বাস্তবে প্রয়োগ করা যায়। তাই এদিক থেকে যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যা বলে অভিহিত করা যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যুক্তিবিদ্যার মধ্যে যেমন বিজ্ঞানের দিক বিদ্যমান রয়েছে, তেমনি কলাবিদ্যার দিকও বিদ্যমান রয়েছে। তাই যুক্তিবিদ্যা কলা ও বিজ্ঞান উভয়ই।