উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের মধ্যযুগকে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ধারার দ্বিতীয় যুগ হলো মধ্যযুগ।
যুক্তিবিদ্যার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ধারাকে মোট চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো- প্রাচীনযুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ ও সাম্প্রতিক যুগ। যুক্তিবিদ্যা প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার বিকশিত হয়েছে। মধ্যযুগ যুক্তিবিদ্যার কর্মবিকাশের একটি বিশেষ যুগ। মধ্যযুগে মূলত মুসলিম মনীষীদের আবির্ভাব ঘটে। আল-কিন্দি, আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, ইবনে রুশদ প্রমুখ মনীষীরা তাদের যুক্তিচর্চায় প্রাচীন বিশ্ব ও মধ্যযুগীয় পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সেতুবন্ধ স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আল-ফারাবি ছিলেন অ্যারিস্টটলের অনুসারী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি অ্যারিস্টটলের ব্যাখ্যাকে আরও বর্ধিত ও সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি যুক্তিবিদ্যাকে মূলত দুটি অংশে বিভক্ত করে বিভিন্ন বিষয় সন্নিবেশিত করেন। এজন্য আল-ফারাবিকে মধ্যযুগের যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত যুক্তিবিদগণ হলেন আল-কিন্দি, আল-ফারাবি, ইবনে সিনা। যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ধারার এসব মুসলিম মনীষী যুক্তিবিদ্যার মধ্যযুগে আবির্ভূত হন। তারা সকলেই ছিলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের অনুসারী। মধ্যযুগে অ্যারিস্টটলের অনুসরণে তারা যুক্তিবিদ্যার বিস্তৃত আলোচনা করেছেন এবং যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক প্রসার ঘটিয়েছেন।
সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের মধ্যযুগকে নির্দেশ করে।