পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উদ্দীপকে বর্ণিত যুক্তিবিদ্যার পরিধি বিশ্লেষণ করা হলো-
যুক্তিবিষয়ক বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিই (Argument) হলো যুক্তিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয়। অর্থাৎ যুক্তির বৈধতা বা অবৈধতা যাচাই করাই যুক্তিবিদ্যার মূল কাজ। তাই যুক্তির উপাদান হিসেবে অনুমান, অবধারণ ও যুক্তিবাক্য, আশ্রয়বাক্য, সিদ্ধান্ত এসবের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। যুক্তিবিদ্যা পদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে 'বিধেয়ক' (Predicables) নামক একটি বিষয়ের আলোচনা করে। পাশাপাশি সত্যতার সাথে বৈধতার সম্পর্ক নিয়েও যুক্তিবিদ্যায় আলোচনা করা হয় ।
যুক্তিবিদ্যা হলো একটি চিন্তার বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যায় চিন্তা বলতে আমরা শুধু অনুমানকেই বুঝি। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা অনুমান নিয়েই আলোচনা করে, অপরাপর চিন্তা-পদ্ধতি নিয়ে নয়। বস্তুত চিন্তা বা অনুমানের বাহন হলো ভাষা। সঠিক যুক্তি-পদ্ধতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভাষার সঠিক ব্যবহারের প্রয়োজন। সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হলে একইরূপ ভাষা ভিন্নরূপ অর্থে প্রকাশিত হতে পারে। তাছাড়া ভাষায় ব্যবহৃত কোনো কোনো শব্দ একাধিক অর্থ প্রকাশ করতে পারে। ভাষার দ্ব্যর্থকতা ও অস্পষ্টতা পরিহার করে চলা যুক্তিবিদ্যার জন্য খুবই জরুরি। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা ভাষার সঠিক ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করে ।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা চিন্তা বা অনুমানের স্বরূপ ও আকার নিয়ে আলোচনা করে। বাস্তবিক অর্থে চিন্তা বা অনুমানের পরিসর ব্যাপক হওয়ার কারণে যুক্তিবিদ্যার পরিধিও ব্যাপক ।