উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো যুক্তিবিদ্যা। আর যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান ও কলা।
যুক্তিবিদ্যার স্বরূপের দিক থেকে হ্যামিলটন, টমসন, ম্যানসেল প্রমুখ যুক্তিবিদ যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ বিজ্ঞানের মতোই যুক্তিবিদ্যার নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় রয়েছে এবং এই আলোচ্য বিষয় সুশৃঙ্খল। আর যুক্তিবিদ্যার কাজ হলো যথার্থ যুক্তি পদ্ধতির নিয়মকানুন সম্বন্ধে জ্ঞান দান করা। আবার যুক্তিবিদ অ্যালড্রিচের মতো অনেকেই যুক্তিবিদ্যাকে ব্যবহারিক দিক থেকে কলা বলে অভিহিত করেছেন। কেননা যুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ বা ব্যবহারিক দিক রয়েছে। কলাবিদ্যার মতো যুক্তিবিদ্যা যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলিকে বাস্তবে প্রয়োগ ও ব্যবহার করার শিক্ষা দেয়। এ কারণে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা উভয়ই।
যুক্তিবিদ্যা হলো আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। সত্যের আদর্শ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং এইসব নিয়মের আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরূপণ করে। সমকালীন যুক্তিবিদরা যুক্তিবিদ্যাকে একটি আকারগত বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু যুক্তিবিদ যোসেফ এর মতে, যুক্তিবিদ্যা একইসাথে আকারগত ও বস্তুগত বিজ্ঞান। কেননা যুক্তিবিদ্যা চিন্তার আকার নিয়ে আলোচনা করে ঠিকই কিন্তু চিন্তার উপাদানকে বাদ দিয়ে নয়।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান হিসেবে বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি সম্পর্কে জ্ঞান দান করে এবং যুক্তির নিয়মাবলি বাস্তবে সঠিকভাবে প্রয়োগের কলাকৌশলও দান করে। তাই স্বরূপের দিক থেকে যুক্তিবিদ্যা কলা ও বিজ্ঞান উভয়ই।