হ্যাঁ, আমি মনে করি শিশু পুত্রের ক্ষেত্রে মাননীয় বিচারকের রায়ের আদেশটি তার ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
বিচারবিভাগ সমাজের সার্বিক মঙ্গল সাধনের নিমিত্তে নানারকম কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে বিচারক সর্বদা আইন অনুযায়ী বিচার করে নাগরিকের অধিকার রক্ষা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। তবে অনেক সময় প্রচলিত আইনের নির্দেশন প্রচলিত আইনে না থাকলে বিজ্ঞ বিচারক তার মেধা, মনন আর বিবেককে কাজে লাগিয়ে বিচার কাজ করে থাকেন।
উদ্দীপকে আড়াই বছরের শিশু পুত্রের মাতা পিতার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটলে বিজ্ঞ আদালত শিশুটির ভবিষ্যৎ মঙ্গল বিবেচনায় এনে পিতার তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে ন্যাস্তের আদেশ দেন। বিচারকের এরূপ আদেশ তার এক্তিয়ারভুক্ত। কেননা প্রচলিত আইনের সাহায্যে আদালতের সম্মুখে উপস্থিত সব মামলার মীমাংসা করা অনেক ক্ষেত্রে বিচারকের পক্ষে সম্ভবপর হয় না। এসব ক্ষেত্রে বিচারকগণ ব্যক্তিগত বিবেক বুদ্ধি, স্বাভাবিক ন্যায়নীতি, সুবিচার প্রভৃতির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং বিচারকার্যের সম্পাদন করেন। এছাড়া যেখানে আইন সুস্পষ্ট নয় সেখানে বিচারকগণের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের দ্বারাই বিবাদের বিচার করা হয়। এভাবে বিচারকগণ নতুন আইন সৃষ্টি করেন। সুতরাং এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত বিচারকের রায়টি তার ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, বিচারকরা সর্বদা জনগণের ভবিষ্যৎ কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিবেকপ্রসূত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ক্ষমতা রাখেন। সেটি উদ্দীপকে বিচারকের রায়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত।