হ্যাঁ, আমি মনে করি সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় উদ্দীপকে বর্ণিত L বিভাগ তথা আইন বিভাগ দ্বারা P বিভাগ তথা শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত।
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হল আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ। সারা দেশ থেকে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মূলত জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি। আবার তারাই সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। এ কারণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। তথাপি শাসন বিভাগের সদস্যরা যেহেতু আইন বিভাগের সদস্য। এক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া আচরণ করতে পারে। আর একারণেই জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী আইনসভা শাসন বিভাগের সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় এনে তাদের বেপরোয়া কাজে লাগাম টেনে ধরে।
আইনসভার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ করা। আইনসভা আইন প্রণয়ন,নীতি নির্ধারণ এবং শাসন বিভাগের সুপারিশকৃত আইনবাদ প্রস্তাবকে অনুমোদন বা বাতিল করার মাধ্যমে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা তাদের কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন। আইনসভা এরো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে। আইন সভা ক.প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, খ. মুলতবি প্রস্তাব, গ. নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ এবং ঘ. অনাস্থা প্রস্তাব ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকারের আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।আইন বিভাগ শাসন বিভাগের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করলে শাসন বিভাগকে পদত্যাগ করতে হয়।
আলোচনা পরিশেষে তাই এটিই প্রতীয়মান হয় যে আইন বিভাগ বিভিন্নভাবে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।