উদ্দীপকের জনাব 'ক'- এর আচরণে গণতান্ত্রিক এবং জনাব 'খ' এর আচরণে একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার রূপ প্রকাশ পায়। এ দুটি শাসনব্যবস্থার মধ্যে আমি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে সমর্থন করি।
ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে সরকারের দুটি রূপ দেখা যায়। একটি হলো একনাকান্তিক সরকার এবং অন্যটি হলো গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক সরকার হলো সেই সরকার ব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতার জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। অন্যদিকে, একনায়ক তান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাগণ তাদের শাসন ব্যবস্থার ঠিক উল্টো পথে চলে। এখানে একজন শাসক রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব ক এর আচরণে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হয়। এ ধরনের সরকার ব্যবস্থার জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত একাধিক দলের উপস্থিতি রয়েছে, প্রচার মাধ্যমগুলো মুক্ত ও স্বাধীন। আইন সবার সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এখানে জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস।
অন্যদিকে জনাব খ এর আচরণে একমাত্র তান্ত্রিক সরকার প্রতিচ্ছবি সুস্পষ্ট। কারণ তিনি তার প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতা প্রয়োগের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী যা একমাত্রান্ত্রিক সরকারকে তুলে ধরে। এখানে সকল ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকে বিধায় একটিমাত্র রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রচার মাধ্যম গুলো সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত থাকে। ফলের জনগণের বাকস্বাধীনতা থাকে না। আইনসভার প্রকৃতি অনেকটা প্রহসনমূলক হয়ে থাকে। এ ধরনের সরকার ব্যবস্থা শাসকযুক্তি অপেক্ষায় বেশি শক্তিতে বেশি বিশ্বাস করে।
উপরীয়ক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, গণতান্ত্রিক সরকার হলো জনগণের অধিকার রক্ষার একটি জনকল্যাণ নিয়োজিত একটি শাসন ব্যবস্থা। যেখানে একনায়ক তান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা সর্বত্র জনকল্যাণে বিঘ্নিত করে। এ কারণে আমি মনে করি গণতান্ত্রিক সরকার একনায়কতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা থেকে উত্তম।