উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা এবং 'খ' রাতে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকার দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি হল সংসদীয় বা মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ও অন্যটি হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। এ উভয় সরকারের মধ্যে তাই সুস্পষ্ট পার্থক্য থাকা বাঞ্ছনীয়।
উদ্দীপকে 'ক' রাসেল সরকার প্রধান ও মন্ত্রী পরিষদ আইনসভার কাছে জবাবদিহি করেন না। অন্যদিকে 'খ' রাষ্ট্রে তাদের কাজের জন্য আইনসভায় জবাবদিহি করে থাকে। এ থেকে বোঝা যায় ক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ও খ রাষ্ট্রের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এ উভয় সরকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সংসদীয় বা মন্ত্রী পরিষদ ৬৬ টি সরকার ব্যবস্থায় আইনসভার সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী। এ শাসনব্যবস্থার রাষ্ট্রপতি হরণ নিয়ম তান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। প্রকৃত শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রী হাতে। তিনিই আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। উক্ত শাসনব্যবস্থায় আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই সরকার গঠন করে। অপরদিকে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্রপতি একই সাথে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান। এ শাসনব্যবস্থার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নয় এবং রাষ্ট্রপতির সহকর্মীই ও নয় বরং অধস্তন কর্মচারী মাত্র। এ ধরনের শাসনব্যবস্থার বিচার বিভাগের প্রাধান্য থাকে। অতএব দেখা যায়, মন্ত্রী পরিষদ বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রধানমন্ত্রী হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি হলেন সকল ক্ষমতার শীর্ষে।