রবার্ট-এর দেশের সরকারব্যবস্থাটি হলো একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা।উদ্দীপকের রবার্ট বলল, তার দেশের সরকারব্যবস্থা বিপরীতধর্মী। তার দেশে একজনের আদেশ নির্দেশই আইনতুল্য এবং সবাই তা মান্য করতে বাধ্য। এমনকি তার দেশে বাক্-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিরর্থক। এরূপ বর্ণনায় স্পষ্টভাবে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি প্রকাশ পায়। কেননা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্রের বিপরীত শাসনব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতার কোনো সুযোগ নেই।একনায়কতন্ত্র বলতে আমরা এমন এক ধরনের শাসনকে বুঝি যেখানে এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং বাধাহীন ও একচেটিয়াভাবে তা প্রয়োগ করে থাকে। এ শাসনব্যবস্থায় আইনসভা তার ইচ্ছা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করতে পারে না, বরং একনায়কের ইচ্ছানুযায়ী আইন প্রণীত হয় অর্থাৎ একনায়কতন্ত্রে একনায়কের আদেশই আইন। একনায়কতন্ত্র এক জাতি, এক দেশ ও এক নেতা- এ নীতিতে বিশ্বাসী। এ ধরনের শাসনব্যবস্থা মূলত এক ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। এ দলের নেতাই সরকারপ্রধান, একনায়কতন্ত্রে গণমাধ্যমগুলো নেতা ও তার দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এগুলো নিরপেক্ষভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয় না। বরং সরকারি দলের গুণকীর্তনে ব্যবহৃত হয়। এতে মনে করা হয়, সবকিছু রাষ্ট্রের জন্য, এর বাইরে বা বিরুদ্ধে কিছু নয়। এরূপ শাসনব্যবস্থায় ব্যক্তি ও ব্যক্তিস্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। একনায়কের ইচ্ছাই শেষ ইচ্ছা।