'উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা তথা সংসদীয় সরকারব্যবস্থা জনপ্রিয় হলেও ত্রুটিমুক্ত নয়'- উক্তিটি যথার্থ।সংসদীয় সরকারব্যবস্থা জনপ্রিয় হলেও এ ধরনের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় কিছু অন্তর্নিহিত ত্রুটি রয়েছে। যেমন-এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের অভাব স্পষ্ট; মন্ত্রীরা একযোগে আইন ও শাসন বিভাগে নিয়োজিত থাকায় প্রশাসনের ওপর সুনির্দিষ্ট মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়। মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্তৃত্ব এক ধরনের একনায়কত্ব সৃষ্টি করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। নির্বাচনে যোগ্যতার বদলে জনপ্রিয়তা মুখ্য হয়ে ওঠায় অযোগ্য ব্যক্তিরা আইনসভায় প্রবেশ করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব করে, যা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তদুপরি জোট সরকার গঠনের কারণে সরকার দুর্বল ও অস্থির হয়ে পড়ে, যা নীতিনির্ধারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি, আমলাতান্ত্রিক প্রভাব, প্রশাসনিক অজ্ঞতা ও দুর্নীতিও সংসদীয় সরকারের দুর্বল দিকগুলোর অন্যতম। এ কারণে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা অনেক সময় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়।অতএব বলা যায়, গণতান্ত্রিক কাঠামোর কারণে সংসদীয় সরকার জনপ্রিয় হলেও এর কার্যকারিতা ব্যবস্থার প্রয়োগকারীর উপর নির্ভর করে। সঠিকভাবে প্রয়োগ না হলে এর ত্রুটিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং সরকার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।