বাংলাদেশ ও আমেরিকা রাষ্ট্র দুটোর মধ্যে যে ক্ষেত্রে মিল আছে তাহলো গণতন্ত্র । গণতন্ত্রের সাফল্যের অনেকগুলো শর্ত রয়েছে ।
গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য দরকার গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন জনগণ । অর্থাৎ গণতন্ত্রকে চাপিয়ে দিলেই হবে না, জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রকে যথাযথভাবে অনুধাবন করার বোধশক্তি ও চর্চা করার মানসিকতা থাকতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র কখনও সাফল্য লাভ করবে না। কোনো সমাজে গণতন্ত্রের ঐতিহ্য না থাকলে সেখানে গণতান্ত্রিক শাসন সফল হয় না। গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে চাই ব্যাপক শিক্ষার প্রসার। শিক্ষা মানুষকে আত্মসচেতন, আত্মমর্যাদাবান, কর্তব্যনিষ্ঠ ও অধিকার সচেতন করে তোলে। এর ফলে গণতন্ত্র সর্বশ্রেষ্ঠ সরকারে পরিণত হয়। সমাজে আর্থিক সমতা বিধান করতে না পারলে গণতন্ত্র সফল হতে পারে না। এজন্য অর্থনৈতিক সাম্য গণতন্ত্রের সফলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে বিবেচিত হয় ।
গণতান্ত্রিক শাসন জনমতের ওপর নির্ভরশীল। নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ক্ষমতাসীন সরকার সাধারণত জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো মুক্ত ও স্বাধীন প্রচার মাধ্যম। গুরুত্বের জন্য সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের 'চতুর্থ এস্টেট' বলে অভিহিত করা হয়েছে। গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নীতিকে অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় শাসনকে শক্তিশালী করা যায়। আর স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।গণতন্ত্রের সফলতার জন্য লিখিত সংবিধান বড় ভূমিকা রাখে। গণতন্ত্রের সফলতার আরেকটি পূর্বশর্ত হলো রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ, 'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান' এ নীতির বাস্তবায়ন প্রয়োজন । ধনী, দরিদ্র, দুর্বল, ক্ষমতাবান নির্বিশেষে সবার ব্যাপারে আইন সমানভাবে প্রযোজ্য না হলে গণতন্ত্র সফল হবে না ।
উপরের শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। তাই আধুনিক সমস্যাসঙ্কুল রাষ্ট্রে নানাবিধ সংকটের মোকাবিলা করে গণতন্ত্রকে সফল করতে উল্লিখিত শর্তগুলো পূরণে সব নাগরিক, দল ও সরকারের সচেষ্ট হওয়া উচিত।