হ্যাঁ আমি মনে করি 'ক' লাস্টের শাসনব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের সহায়ক। সমাজতন্ত্র হলো ব্যক্তিরস্বতন্ত্রবাদের তথা পুঁজিবাদের বিপরীত ধর্মী ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থা উৎপাদনের উপকরণ গুলোর উপর ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক সরকার ব্যক্তিস্বার্থের পরিবর্তে সমষ্টিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থা থাকে বিধায় এখানে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ সহজ হয়। সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ব্যক্তি মালিকানা না থাকার কারণে এখানে সম্পদের বৈষম্য সৃষ্টি হয় না। কারণ উৎপাদন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ এ দুটি সমাজতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা, মানব প্রকৃতি, সম্পর্কে ধারণ প্রতিষ্ঠা, বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভ এবং শ্রেণী বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আমরা যদি পজিপতি সমাজের দিকে তাকাই সেখানে দেখা যায়, পৃথিবীর মাঝে সমস্ত বৈষম্যের মূল নিয়ামক হল ব্যক্তি মালিকানা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির প্রতি মানুষের মোহ। এরূপ ব্যক্তি মালিকানের কোন বাঁধন থাকেনা বলে ধনীরা গরিবদের শোষণ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। কিন্তু সমাজতন্ত্র ব্যক্তিগত মালিকানা উপর রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ফলে জনগণ ইচ্ছা করলে সম্পদের পাহাড় গড়তে পারে না। এছাড়া এই ব্যবস্থায় সরকার প্রত্যেকের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে। ফলে কেউ বেকার থাকে না বলে বৈষম্যের মাত্রা কমে আসে। উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে শোষণহীন ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।