উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং 'খ' রাষ্ট্রে এর বিপরীত সরকার ব্যবস্থা তথা এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এর মধ্যে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য অধিক উপযোগী বলে আমি মনে করি। এককেন্দ্রিক সরকার এমন এক ধরনের সরকারকে বোঝায় যেখানে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতের ন্যস্ত থাকে। এখানে প্রাদেশিক সরকার বা অঙ্গরাজ্য থাকতে পারে ;কিন্তু এ সরকার গুলো কোনো স্বাধীন ক্ষমতা ভোগ করতে পারে না । আঞ্চলিক ও প্রাদেশিক সরকার ক্ষমতা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো সংবিধানিক স্বাধীনতা ভোগ করে না। গোটা দেশ একটি কেন্দ্র থেকে শাসিত হয়। উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রের যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। বাংলাদেশের মতো আয়তনের ছোট রাষ্ট্রের জন্য এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা অধিকতর উপযোগী। কারণ, এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা নমনীয়। কেননা কেন্দ্রীয় সরকার উপস্থিতি অনুযায়ী যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এককেন্দ্রিক সরকারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এক কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হয় বিধায় বলিষ্ঠ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। এ শাসনব্যবস্থা সরকারি খরচের অপচয় রোধ করে এবং অপেক্ষাকৃত ছোট বা ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে ও শাসনব্যবস্থা উপযোগী।কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী বিধায় রাষ্ট্রীয় ঐক্য সৃষ্টি করা সহজ হয়। জনগণ আঞ্চলিক আনুগত্যের প্রভাবে প্রভাবাঞ্চিত হয় না। এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থায় সুষ্ঠু শাসনের নিশ্চয়তা প্রদান করে জোরদার জাতীয় সংহতি গড়ে তোলা সম্ভব হয়। উপযুক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থার একাধিক বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী রয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়া এরূপ ছোট একটি রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে। এসব কারণে বাংলাদেশের জন্য এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা অধিকতর উপযোগী।