উদ্দীপকে বর্ণিত ডা.লাবনীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানারূপ করণীয় রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং সুসভ্য সমাজ জীবনের জন্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক। রাষ্ট্র নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, অধিকারসমূহ প্রবর্তন ও সেগুলো সংরক্ষণ করে থাকে। রাষ্ট্র বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে রেখেছে। সেই সাথে প্রত্যেক মানুষের অধিকার সংরক্ষণে নাগরিক সচেতনতা ও তার প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকের বর্ণিত ডা. লাবনী অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তার এর প্রতিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাগ্রে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করা জরুরী। কারণ আইন হচ্ছে সকল অধিকারের রক্ষাকবচ। আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের ফলে অধিকার নিশ্চিত হয়। রাষ্ট্র কর্তৃক আইনের মাধ্যমে প্রথিত শাস্তির ভয়ে কেউ সাধারণত অন্যের অধিকার খর্ব করে না। ডা. লাবনীর অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে যথাযথ আইনের অনুশাসনের প্রয়োজন। আইনের অনুশাসনের অর্থ হলো সব ক্ষেত্রে আইনের প্রাধান্য। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং সকলে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। এছাড়া সাত দিন বিচার বিভাগে দ্বারস্থ হয়েও তিনি প্রাপ্ত অধিকার ভোগের স্বাধীনতা ফেরত পেতে, পারেন। তবে এ ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রধানতম হাতিয়ার হলো জনগণ সচেতনতা এবং সমাজের সাম্য প্রতিষ্ঠা। জনগণ যদি তাদের অধিকার সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন থাকে, তবে তাদের অধিকার কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না কিংবা তিনিও অন্যের অধিকার হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবেন। আর সমাজের সাম্য প্রতিষ্ঠা পেলে নারী-পুরুষ উভয় তাদের অধিকার প্রাপ্তিদের সমতাভোগ করতে পারবেন, যা সমাজে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা একান্তর অপরিহার্য। আলোচনা শেষে বলা যায়, ডা. লাবনী তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাগ্রে তাকে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে তার স্বামীকেও সচেতন করতে হবে। এসবের মাধ্যমেই ডা. লাবনীতার অধিকার ফিরে পেতে পারেন।