দৃশ্যকল্প-১ এ নীতিবিদ্যা (Ethics) এবং যুক্তিবিদ্যা (Logic) বিষয় দু'টির প্রতিফলন ঘটেছে।
যে বিদ্যা সমাজে বসবাসকারী মানুষে আচরণের ভালো-মন্দ উচিত- অনুচিত নৈতিক আদর্শের আলোকে মূল্যায়ন করে তাকে নীতিবিদ্যা বলে। আর যে বিদ্যা বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তিকে পৃথক করার পদ্ধতি ও নিয়মাবলির শিক্ষা দেয় তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে। নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার সম্পর্ক আলোচনা করলে তাদের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে উভয় মূল্যায়নমূলক বিদ্যা। উভয়েই কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। উভয়েই আদর্শ প্রতিষ্ঠায় তৎপর। বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়- নীতিবিদ্যা আচার আচরণ সংক্রান্ত বিদ্যা। আর যুক্তিবিদ্যা যুক্তি সংক্রান্ত বিদ্যা। নীতিবিদ্যার আদর্শ হলো কল্যাণ। আর যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো সত্য। নীতিবিদ্যার বিষয়গুলো স্থান কাল পত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। কিন্তু যুক্তিবিদ্যার বিষয়গুলো স্থান, কাল পাত্র ভেদে একই রূপ হয়। নীতিবিদ্যার নিয়ম না মানলে মানুষকে সমাজে খারাপ চোখে দেখা হয়। কিন্তু যৌক্তিক নিয়মের ক্ষেত্রে তেমনটা করা হয় না। নীতিবিদ্যা মানুষের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের নৈতিক মান বিচার করে। অন্যদিকে, যুক্তিবিদ্যা মানুষের চিন্তা ও কর্মের যৌক্তিকতা বিচার করে।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ নজরুল এর সীমিত লাভে ব্যবসা, ওজনে সঠিক দেওয়া এবং ফ্রেশ ফল বিক্রি করা নৈতিকতার জ্ঞানের প্রতিফলন। আবার তার সব সময়ে যৌক্তিক চিন্তা ও কাজ করা, সত্যকে গ্রহণ এবং অসত্যকে বর্জন করার জ্ঞানটি যুক্তিবিদ্যার কলা-কৌশলের ব্যবহারিক রূপ।
পরিশেষে বলা যায়, নজরুলের চিন্তা ও কাজের সাথে যুক্তিবিদ্যা এবং নীতিবিদ্যার মিল লক্ষণীয়। তার ব্যবসায় ক্ষেত্রে সীমিত লাভ, ওজনে সঠিক দেওয়া, ফ্রেশ ফল বিক্রি নীতিবিদ্যার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে করা। অপরদিকে, যৌক্তিক চিন্তা ও কাজ, সত্যকে গ্রহণ এবং অসত্যকে বর্জন করার জ্ঞান যুক্তিবিদ্যার কলা-কৌশল। যাদের লক্ষ্য ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে সততার সাথে জীবন পরিচালনা করা।