উদ্দীপকে উল্লিখিত বাবার বক্তব্যের বিষয় হলো গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুসারে যুক্তিবাক্যের শ্রেণিবিন্যাস।
গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুসারে- যুক্তিবাক্যকে সার্বিক সদর্থক, সার্বিক নঞর্থক, বিশেষ সদর্থক ও বিশেষ নঞর্থক এই চারভাগে ভাগ করা যায়। এই চার প্রকার যুক্তিবাক্যকে যথাক্রমে A, E, I এবং O দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
যেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদ (Predicate) উদ্দেশ্য পদের (Subject) সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ (Denotation) সম্পর্কে স্বীকার করা হয় তাকে সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য (Universal Affirmative Proposition) বা A বাক্য বলে। যেমন- 'সকল মানুষ হয় মরণশীল।' এখানে বিধেয় পদ 'মরণশীল' কে উদ্দেশ্য পদ 'মানুষ' এর সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। যেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয় তাকে সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য (Universal Negative Proposition) বা E বাক্য বলে। যেমন- 'কোনো মানুষ নয় অমর' এখানে বিধেয় 'অমর' পদকে উদ্দেশ্য 'মানুষ' পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে। আবার, যেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করা হয় তাকে বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য (Particular Affirmative Preposition) বা I বাক্য বলে। যেমন- 'কিছু ফুল হয় লাল' এই যুক্তিবাক্যে 'লাল' বিধেয় পদকে 'ফুল' উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে, যেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয় তাকে বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য (Particular Negative Proposition) বা বাক্য বলে। যেমন- 'কিছু মানুষ নয় সৎ' এই যুক্তিবাক্যে বিধেয় 'সৎ' পদকে উদ্দেশ্য 'মানুষ' পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বাবার বক্তব্যে উল্লিখিত গুণ ও পরিমাণের একত্রে বর্ণনা উপরের গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুসারে যুক্তিবাক্যের শ্রেণিবিন্যাসের অনুরূপ।