উদ্দীপকের 'দৃশ্যকল্প-২'-এ নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে এদের সম্পর্ক আলোচনা করা হলো-
১. নীতিবিদ্যা হচ্ছে মূল্যবিদ্যার একটি শাখা। এভাবে যুক্তিবিদ্যাও মূল্যবিদ্যার একটি শাখা। তাই এ দুটি বিষয় একই উৎস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
২. নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা উভয়ই তাদের বিষয়বস্তুর আলোচনায় কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করে। অর্থাৎ, নীতিবিদ্যা যেমন মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানব আচরণের মূল্যায়ন করে। তেমনি যুক্তিবিদ্যাও কিছু মানদণ্ডের আলোকে যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ণয় করে।
৩. নীতিবিদ্যা যেমন আমাদের যথার্থ আচরণ করার নির্দেশনা দেয় যুক্তিবিদ্যাও তেমনি যথার্থ আচরণ করার: দিকনির্দেশনা দিতে পারে। কেননা যে কাজ যৌক্তিক সেদিকে আমাদের মন ধাবিত হতে পারে।
৪. নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা উভয়ের লক্ষ্য সত্য প্রতিষ্ঠা। নীতিবিদ্যা কল্যাণকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে আর যুক্তিবিদ্যা সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সত্য হলো কল্যাণের বাহক।
৫. নীতিবিদ্যা অনেক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এসব তত্ত্ব এখানেই গ্রহণযোগ্য হয় যখন তা যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হয়। তাই উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
পরিশেষে বলা যায়, নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের যুক্তি ও বিবেক যখন একান্তভাবে সমন্বিত হয় তখনই প্রকৃতপক্ষে, মানুষ উন্নত জীবনের ধারক হয়ে ওঠে। তাই যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে।