উদ্দীপকে আবিদ সাহেব ও রহমানের কর্মকাণ্ডে নীতিবিদ্যার ব্যবসায় ও পেশাগত দিক এবং যুক্তিবিদ্যার মধ্যে কিছু সাদৃশ্য- বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে চিন্তা বা অনুমান সম্পর্কিত বিজ্ঞান। সুশৃঙ্খল নিয়ম- কানুন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য আবিষ্কার করা যুক্তিবিদ্যার কাজ। যেমন- মানুষ হয় মরণশীল। এ বাক্যটি মানুষের মরণশীলতার ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীর কোনো মানুষ অমর নয়। সুতরাং এ যুক্তিটি সত্য। আর নীতিবিদ্যা সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান। কল্যাণ হচ্ছে নীতিবিদ্যার আদর্শ। এটি মানুষের বিভিন্ন কাজকে উচিত-অনুচিত, অর্থে মূল্যায়ন করে থাকে। যেমন- ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ওজনে কম দেওয়া অনৈতিক কাজ। বস্তুত যুক্তিবিদ্যা সঠিক যুক্তিপদ্ধতি আবিষ্কার তথা ঘটনার সত্যতা নির্ণয় করে। যা একটি মানসিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, নীতিবিদ্যা আমাদের আচরণের ভালো-মন্দ দিক মূল্যায়ন করে থাকে।
উদ্দীপকে রহমান সাহেব দোকানের সব কাপড় সুন্দর করে সাজিয়ে রাখেন, ন্যায্যমূল্যে কাপড় বিক্রি করেন ও মহাজনের টাকা সময়মত পরিশোধ করেন। অর্থাৎ তার বাহ্যিক আচরণে নৈতিকতার প্রতিফলন দেখা যায় যা পেশাগত নীতিবিদ্যা আবার, আবিদ সাহেব এ কাজগুল্যে করেন না। এজন্য তার কর্মকাণ্ড পেশাগত নীতি পরিপন্থী। পেশাগত নীতিবিদ্যা হলো বাহ্যিক আচরণের প্রতিফলন। অপরদিকে যুক্তিবিদ্যা হলো অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করার প্রক্রিয়া, যা একটি মানসিক প্রক্রিয়া।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় ভিন্ন। আমরা জানি, চিন্তা একটি মানসিক প্রক্রিয়া এবং আচরণ একটি, বাহ্যিক প্রক্রিয়া।