উদ্দীপকের আলোকে গীতা ও মীতার বক্তব্যের তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে গীতার বক্তব্যে মানুষের চিন্তা ও অনুমান করার ক্ষমতা দ্বারা যুক্তিবিদ্যার জ্ঞানকে নির্দেশ করে এবং মীতার বক্তব্যে ভালো-মন্দ, উচিত- অনুচিত বিচার করতে পারা নীতিবিদ্যার জ্ঞানকে নির্দেশ করে। নিচে উভয়ের বক্তব্যের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো- প্রথমত, যুক্তিবিদ্যা যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে, নীতিবিদ্যা মানবাচরণের নৈতিক মান নিয়ে আলোচনা করে। দ্বিতীয়ত, যৌক্তিক কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তিবিদ্যা চর্চা করা অপরিহার্য নয়। পক্ষান্তরে, নীতিবিদ্যায় নৈতিক নিয়ম না মানলে মানুষকে সমাজে খারাপ চোখে দেখা হয়। তৃতীয়ত, যুক্তিবিদ্যা কেবল প্রদত্ত যুক্তির বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে, নীতিবিদ্যা মানুষের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের নৈতিক মান বিচার করে। চতুর্থত, যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্র নীতিবিদ্যার পরিসর অপেক্ষা সংকীর্ণ। পক্ষান্তরে, নীতিবিদ্যার পরিসর যুক্তিবিদ্যা অপেক্ষা অনেক বেশি ব্যাপক। পঞ্চমত, যুক্তিবিদ্যায় নীতি- আদর্শ বা মানদণ্ড প্রায় বিতর্ক ছাড়াই গ্রহণীয়। অন্যদিকে, নীতিবিদ্যার আদর্শ অনেক ক্ষেত্রেই বিতর্কিত উদ্দীপকে গীতা বলেছে, প্রত্যেক মানুষের চিন্তা ও অনুমান করার ক্ষমতা আছে। যার মাধ্যমে তারা সত্যকে গ্রহণ ও মিথ্যাকে বর্জন করে। যার আদর্শ হলো সত্যকে অর্জন করা। মীতা মানুষের আরো কিছু গুণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে যা দ্বারা মানুষ ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে। যার আদর্শ হলো কল্যাণ। পরিশেষে বলা যায়, মানুষের জীবনের তিনটি মৌলিক আদর্শ হলো সত্য, সুন্দর ও মঙ্গল। এর মধ্যে যুক্তিবিদ্যা সত্যকে নিয়ে এবং নীতিবিদ্যা মঙ্গলকে নিয়ে আলোচনা করে। যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। যা উদ্দীপকে গীতা ও মীতার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।
HSC Logic 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Logic 1st Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে গীতা ও মীতার বক্তব্যের তুলনামূলক আলোচনা কর।
উদ্দীপক
Sylhet · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর