দৃষ্টান্ত-১ এর বিষয়টি হচ্ছে নীতিবিদ্যা ও দৃষ্টান্ত-২ এর বিষয়টি হচ্ছে যুক্তিবিদ্যা। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক গভীর।যুক্তিবিদ্যার সাথে নীতিবিদ্যার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যেমন- নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা উভয়ই তাদের বিষয়বস্তুর আলোচনায় কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করে। অর্থাৎ একটি মানদণ্ডের আলোকে নীতিবিদ্যা যেমন মানব আচরণের ভালো-মন্দ নির্ধারণ করে, তেমনি যুক্তিবিদ্যাও কিছু নিয়ম-পদ্ধতি বা মানদণ্ডের আলোকে যুক্তি বৈধতা-অবৈধতা নির্ণয় করে। আবার সত্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা নীতিবিদ্যার লক্ষ্য। নীতিবিদ্যা কল্যাণকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে। কল্যাণ অযৌক্তিক নয়। ভালো সর্বদাই যৌক্তিক। তাই যুক্তিবিদ্যাও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর সত্য হলো কল্যাণের বাহক। অন্যদিকে, নীতিবিদ্যা যেমন আমাদের যথার্থ আচরণ করার নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কেননা যে কাজ যৌক্তিক সেদিকে আমাদের মন ধাবিত হয়। মানুষের যুক্তি এবং বিবেক যখন একান্তভাবে সমন্বিত হয় তখনই প্রকৃতপক্ষে মানুষ উন্নত জীবনের ধারক হয়ে ওঠে। তাই এ দুটি বিদ্যা পরস্পর নির্ভরশীল।উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ জনাব রহমানের সঠিক ওজনে ফল বিক্রয় করা, ভেজাল মুক্ত ফল বিক্রি করা নীতিবিদ্যাকে নির্দেশ করে। দৃষ্টান্ত-২ এ জলিল তার গ্রামের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। তিনি একজন আবেগ, কুসংস্কার ও পক্ষপাত মুক্ত মানুষ। যেকোনো ঘটনাকেই তিনি যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করেন। জনাব জলিলের এই আচরণ যুক্তিবিদ্যাকে নির্দেশ করে কারণ যুক্তিবিদ্যাও আবেগ, কুসংস্কার ও পক্ষপাত সমর্থন করে না। যুক্তিবিদ্যা আমাদের সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করা শেখায়।এমনকি যুক্তিবিদ্যা কোনো নৈতিক আচরণের বহির্ভূত বিষয় সমর্থন করেনা। অসত্য, অনৈতিক, ভেজাল, দুর্নীতি প্রভৃতি বিষয়গুলো যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা উভয়ই প্রত্যাক্ষান করে।পরিশেষে বলা যায় নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা আদর্শগত দিক থেকে পরস্পর সম্পর্কিত।