যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে সব বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আবার সব কলাবিদ্যার কলাবিদ্যা।
প্রত্যেক বিজ্ঞানকে কতিপয় ক্রিয়াপদ্ধতিতে অগ্রসর হতে হয়। যেমন- উদ্দেশ্য পদের সংজ্ঞায়ন, বিষয় বা ঘটনাবলির শ্রেণিবিন্যাস, ঘটনাবলির ব্যাখ্যা প্রদান ইত্যাদি। যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে সেই বিজ্ঞান যা সংজ্ঞায়ন, শ্রেণিবিন্যাসকরণ ও ব্যাখ্যাকরণ সম্পর্কে যথাযথ নিয়ম নির্ধারণ করে। এসব প্রক্রিয়া যথার্থভাবে নিম্পন্ন করার স্বার্থে প্রত্যেক বিজ্ঞানকে যুক্তিবিদ্যার ওপর নির্ভর করতে হয়। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার পদ্ধতিগুলোকে ব্যবহার করতে হয়। তাই যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে সব বিজ্ঞানের বিজ্ঞান। যে বিদ্যা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করার নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেয় তাই কলাবিদ্যা। ব্যবহারিক জীবনে যুক্তিবিদ্যা চিন্তা ও তার সহায়ক প্রক্রিয়াসমূহের সাহায্যে আমাদের অনুমানের সত্যাসত্য নির্ণয়ে সহায়তা করে এবং ভ্রান্তি পরিহার করতে শেখায়। তাই যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে সকল কলাবিদ্যার কলাবিদ্যা। J. S. Mill মনে করেন, 'যুক্তিবিদ্যা এ অর্থে বিজ্ঞান যে, তা চিন্তাপদ্ধতির নীতিমালা শিক্ষা দেয় এবং এ অর্থে কলাবিদ্যা যে, তা চিন্তা সম্পর্কিত জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করার নিয়ম পদ্ধতি শিক্ষা দেয়।' যুক্তিবিদ স্কোটাস যুক্তিবিদ্যাকে বলেছেন, “সব বিজ্ঞানের বিজ্ঞান ও সব কলাবিদ্যার কলাবিদ্যা।"
উদ্দীপকে বিজ্ঞান ও কলা ভিন্ন বিষয় হলেও উভয়কে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যুক্তিবিদ্যার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে সব বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আবার সব কলাবিদ্যার কলাবিদ্যা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রতিটি বিজ্ঞান কার্যকারণ সূত্রের ওপর নির্ভর। যে কার্যকারণের ভিত্তি যৌক্তিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে কলাবিদ্যা জ্ঞানের ব্যবহারিক বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এসব কারণে উভয় বিষয়ের ভিত্তি হিসেবে যুক্তিবিদ্যা প্রধান ভূমিকা পালন করে। আমরা বলতে পারি যে, যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে সব বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আবার সব কলার কলা।