উদ্দীপকের প্রথম অংশের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিক ফুটে উঠেছে। আর দ্বিতীয় অংশের মাধ্যমে কলাবিদ্যার দিক ফুটে উঠেছে। সুতরাং উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় সম্ভব।
উদ্দীপকের প্রথম অংশ যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে। উদ্দীপকের কাকলী ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের গানের অনুশীলন করিয়েছেন। ম্যাডামের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা গানের তাল, লয়, সা-রে-গা-মা ইত্যাদি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শিখে নিয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা ম্যাডামের কাছ থেকে গানের নিয়ম নীতিগুলো ভালোভাবে বুঝে নিয়েছে। এই বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিককে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ হ্যামিলটন, টমসন, ওয়েলটন প্রমুখ যুক্তিবিদ যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, চিন্তা বিষয়ক কতকগুলো নিয়ম ও নীতি প্রদান করাই যুক্তিবিদ্যার কাজ। তাই তাত্ত্বিক দিকের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে এসব যুক্তিবিদ যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে যুক্তিবিদ্যার কলাবিদ্যার দিকটি ফুটে উঠেছে। এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত কলাকৌশল বাস্তবে প্রয়োগ করে সুন্দর গান পরিবেশন করে। এটি যুক্তিবিদ্যার দিক থেকে বিবেচনা করলে যুক্তিবিদ্যার কলাবিদ্যার দিককে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ আলড্রিচ যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ব্যবহারিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যা বলে অভিহিত করেছেন।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের প্রথম অংশে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের এবং দ্বিতীয় অংশে কলাবিদ্যার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, যুক্তিবিদ্যা কলা ও বিজ্ঞান উভয়ই। যুক্তিবিদ মিল ও হোয়েটলি যুক্তিবিদ্যাকে কলা ও বিজ্ঞান উভয়ই বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, যুক্তিবিদ্যা নির্ভুল চিন্তার নিয়মাবলীর নির্দেশ প্রদান করে এবং নিয়মাবলীকে সঠিকভাবে প্রয়োগের কলাকৌশলের জ্ঞান দান করে। তাই যুক্তিবিদ্যা কলা ও বিজ্ঞান উভয়ই। যেহেতু উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশে বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় সম্ভব।