উদ্দীপকে সুজন ও ফারিহার বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার সামগ্রিক দিক তথা তাত্ত্বিক বা বিজ্ঞান এবং ব্যাবহারিক বা কলাবিদ্যা বিষয়ক উভয় দিক ফুটে উঠেছে।
যুক্তিবিদ্যার দুটি প্রধান দিক হলো- তাত্ত্বিক বা বিজ্ঞান বিষয়ক দিক এবং ব্যাবহারিক বা কলাবিদ্যা বিষয়ক দিক। কোনো সাধারণ নিয়মের ভিত্তিতে প্রকৃতির কোনো একটি বিশেষ বিষয়ের সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ আলোচনা হচ্ছে বিজ্ঞান। অর্থাৎ বিজ্ঞান কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে। যেমন- পদার্থবিজ্ঞান পদার্থের গঠন ও প্রকৃতি সম্পর্কে
আলোচনা করে। এর মাধ্যমে আমরা পদার্থ সম্পর্কে তাত্ত্বিক জ্ঞান লাভ করি। অন্যদিকে, কলাবিদ্যা হচ্ছে একটি প্রায়োগিক বিদ্যা, যা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার নিয়ম-কানুন ও কৌশল শিক্ষা দেয়। যেমন- নৌবিদ্যা শেখায় কীভাবে নৌযান চালনা করতে হবে এবং শল্যচিকিৎসা বিদ্যা (Surgery) সঠিকভাবে অস্ত্রোপচার করার নিয়ম-কানুন ও কৌশল শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত, সুজন ও ফারিহা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সময় এমন একটি বিষয়ে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে, যা তাদেরকে কোনো বিশেষ জ্ঞান প্রদান করবে এবং সে জ্ঞানকে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যাবে। সুজন ও ফারিহার বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার সামগ্রিক তথা তাত্ত্বিক বা বিজ্ঞান বিষয়ক এবং ব্যবহারিক বা কলাবিদ্যা বিষয়ক উভয় দিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা যুক্তিবিদ্যার দুটি ভিন্ন দিক হলেও পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত। একটিকে ছাড়া অন্যটি পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। কেননা, বিজ্ঞান কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে এবং কলাবিদ্যা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার নিয়ম-কানুন ও কৌশল শিক্ষা দেয়। কাজেই কোনো বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানার্জনের জন্য তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক উভয় দিক অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত।