হ্যাঁ, উদ্দীপকের সূর্য নক্ষত্রের ন্যায় আমার পঠিত একটি শাসনতান্ত্রিক পদের সাদৃশ্য রয়েছে এবং উক্ত পদটি হলো প্রধানমন্ত্রী। উদ্দীপকে সূর্য নামক নক্ষত্রের গুরুত্ব বোঝাতে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সৌরমন্ডলের কেন্দ্রে সূর্যের অবস্থান এবং একে ঘিরেই সৌরমন্ডলের অন্যান্য গ্রহ আবর্তিত হচ্ছে। আর বরিস জনসনকে তেমনই একটি শাসনতান্ত্রিক পদাভিষিক্ত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যার চারদিকে রাজনৈতিক গ্রহগুলো আবর্তিত হয়। অপরদিকে, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী এমন একজন নক্ষত্রতুল্য ব্যক্তি, যাকে ঘিরেই সমস্ত রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কার্যাবলি রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। তিনি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি। বাংলাদেশ মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক পরিচালিত হয় যেখানে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান ব্যক্তি। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে অপসারণ বা নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে সমস্ত মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়ে যায়। মোটকথা, মন্ত্রিপরিষদ তাকে ঘিরে আবর্তিত হয়। আবার সংসদ অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত, মুলতবি প্রভৃতি ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাই কার্যত মুখ্য। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে সমস্ত সরকারই বিলুপ্ত হয়। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত সরকারের অস্তিত্ব বিলীন থাকে। প্রধানমন্ত্রীই রাষ্ট্রের মুখপাত্রে এবং দেশের নির্বাচন, সরকার ক্ষমতাসহ সবকিছুর কেন্দ্রে তার অবস্থান। আর এভাবেই প্রধানমন্ত্রী সৌরজগতের সূর্য গ্রহের সাথে তুলনীয় হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পদটি হলো প্রধানমন্ত্রী।