উদ্দীপকে 'ক' ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সচিবদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। 'সচিবদের কাজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা সুশাসন নিশ্চিত করে'– আমি এ কথার সাথে একমত।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে সচিবালয় প্রশাসন ব্যবস্থার স্নায়ুকেন্দ্র। সচিবালয় গঠিত হয় মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে। আর তাই সচিব হচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সুতরাং দেশে সুশাসন নিশ্চিতকরণে সচিবদের কাজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা থাকা আবশ্যক। সচিব মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পালিত হচ্ছে কিনা তার প্রতি সর্বদা দৃষ্টি রাখেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা বিধান করে থাকেন। তিনি আবার মন্ত্রণালয়ের মুখ্য হিসাব নিরীক্ষক। তাই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে এবং সঠিক প্রয়োজনে ব্যয় হচ্ছে কি-না তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও সচিবের ওপর বর্তায় তিনি জাতীয় সংসদের হিসাব কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিবরণী পেশ করে থাকেন। এভাবে একজন সচিব তার মন্ত্রণালয়ের মুখ্য হিসাব নিরীক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সচিবালয় নিজস্ব কর্মকর্তা, সংযুক্ত দপ্তর, অধঃস্তন অফিসসমূহ এবং মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে থাকে। এ সমস্ত মৌলিক কাজের বাইরেও সচিবালয় আইন প্রণয়ন, বাজেট প্রণয়ন, পরিকল্পনা গ্রহণ, নীতি প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী পরিচালনা করে থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সচিবালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে। আর তাই সচিবালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সচিবদের কাজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা থাকা আবশ্যক। সচিবদের কাজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে।