হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত পদ অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের সার্বিক দায়িত্ব পালনের ফলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়—আমি এ মন্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাকে কেন্দ্র করেই জেলার যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। প্রশাসন সংক্রান্ত সকল দায়-দায়িত্ব তার ওপরই ন্যস্ত । এছাড়া তিনি জেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনিক সংস্থার কাজ তদারকি করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী, সিভিল সার্জন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জেলা কারাগার পরিদর্শকসহ জেলার অন্যান্য সকল নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাজের তদারকি করেন জেলা প্রশাসক। তিনি আবার একজন বিচারকও বটে। তিনি প্রথম শ্রেণির বিচারক হিসেবে ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। বিচারের ক্ষেত্রে তিনি দু'বছর কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করতে পারেন।
জেলা প্রশাসক কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সাথে জনগণের যোগসূত্র স্থাপনের প্রধান মাধ্যম। তার মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নীতি ও কর্মসূচিসমূহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। এছাড়া জেলার অভ্যন্তরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্বও জেলা প্রশাসকের। তিনি জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত সকল সরকারি দপ্তরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারীতে ত্রাণ, সহযোগীতা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। উল্লিখিত কার্যাবলি ছাড়াও জেলা প্রশাসক রাজস্ব সংক্রান্ত, শিক্ষা-সংস্কৃতি সংক্রান্ত ও মানবতামূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে থাকেন।
উপরের আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসক মাঠ প্রশাসনের মধ্যমণি। তার সার্বিক দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের ফলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।