উক্ত আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে। উক্তিটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারসমূহ কার্যকরী করার সকল দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এ মর্মে সংবিধানের ১০২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, (ক) কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহের কোনো একটি বলবৎ করতে এবং প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলির সাথে সম্পর্কিত কোনো দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যেকোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবে। (খ) হাইকোর্টের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোনো অধস্তন আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলায় সংবিধানের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত; তখন হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত আদালত হতে মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়ে স্বয়ং মীমাংসা করবেন।সংবিধানের ১০৩নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করার এখতিয়ার রয়েছে আপিল বিভাগের।তাছাড়া হাইকোর্ট বিভাগ কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে, এর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিকট। আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের ঘোষিত রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা ও ন্যায়বিচার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টকে আইনসভা প্রণীত কোনো আইন যদি সংবিধানের পরিপন্থি হয় তাহলে সে আইনকে বাতিল করে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সামনে কেউ যদি বিচার প্রার্থী হয়ে বলেন যে, সংশ্লিষ্ট আইন সংবিধানবিরোধী এবং সেই অবৈধ আইন দ্বারা তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাহলে বিচারকরা সেই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। সংবিধানের ১০২নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অংশ বাতিল করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এভাবে সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে।