উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অপরিহার্য শর্ত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এই বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যে বিষয়গুলো আবশ্যক উদ্দীপকের বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সেগুলো অনুপস্থিত। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের নিম্ন আদালতের বিচারকরা সরকারের আজ্ঞাবহ, এদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিসহ সবকিছুই মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত। এ খানের বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। অথচ স্বাধীন বিচারবিভাগ সুষ্ঠুভাবে সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিরপেক্ষভাবে ন্যায় বিচার করতে পারে। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও অন্যান্য শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে বিচারকার্য সম্পাদন করাই হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। স্বাধীন বিচার বিভাগের বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির অনুমতি ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে না। তবে বিচারকগণ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারবেন। বিচারকগণের বদলি পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির মতামতই কার্যকর করা হয়। স্বাধীন বিচার বিভাগের এই বিষয়গুলো 'ক' রাষ্ট্রের বিচারবিভাগে নেই। তাই 'ক' রাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে স্বাধীন বলা যায় না।