আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকের জনাব আহমদ সাহেবের বিভাগ তথা বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার দায়িত্ব হাইকোর্ট বিভাগের ওপর ন্যস্ত। কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তিনি এ ব্যাপারে হাইকোর্টের আশ্রয় নিতে পারেন। এ ব্যাপারে হাইকোর্ট যদি তা যথাযথ মনে করে তবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে সে কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে বা করণীয় কাজ করতে আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করতে পারে। তাই জনগণ সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারসমূহ যেমন- জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সমাবেশের স্বাধীনতা, চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতার অধিকার সম্পত্তির অধিকার অনায়াসে ভোগ করতে পারবে। এছাড়া কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা যাবে না। গ্রেফতারকৃত বা প্রহরায় আটক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এর অতিরিক্ত সময় তাকে আটক রাখা যাবে না। একই অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারি মামলায় সোপর্দ ও দন্ড প্রদান করা যাবে না। ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্যে বিচারকাজের অধিকারী হবেন। এভাবে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত। তাছাড়া দেশের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার ভোগ করে। এক্ষেত্রে কোনোরূপ বর্ণ, শ্রেণি, ধর্ম বা লিঙ্গভেদে কাউকেই বঞ্চিত করা যাবে না। এক্ষেত্রে কাউকে বঞ্চিত করা হলে তিনি আইনের আশ্রয় লাভ করতে পারবেন। সুতরাং এটি স্পষ্ট, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য।