উল্লিখিত উদ্দীপকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আদালত বা বিচার বিভাগের ভূমিকা অনন্য।বিচার বিভাগের দক্ষতার ওপর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অনেকাংশে নির্ভরশীল। আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। নাগরিকদের অধিকার ও সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার রক্ষা করার মাধ্যমে বিচার বিভাগ বা আদালত ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। আদালত ন্যায়বিচার, বিচারক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা এবং প্রান্তিক ও দরিদ্রের জন্য যথাযথ বিচার নিশ্চিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করায় ভূমিকা রাখে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলের জন্য একই ধরনের বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য।আইনের শাসনের রক্ষক ও অভিভাবক হলো সংবিধান, আর সংবিধানের রক্ষক হলো আদালত। কোনো আইন সংবিধানের কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে বিচার বিভাগ বা আদালত তার সুরাহা করে। সরকার স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠলে আইনের শাসন বাধাগ্রস্ত হয়। সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে আদালত নানা কৌশল প্রয়োগ করে। আইন অমান্যকারীকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা বিচার বিভাগ নিশ্চিত করে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র বা সরকার, মানবাধিকার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুতর অন্যায়, অধিকার লঙ্ঘন, ক্ষতি হলে বিচার বিভাগ স্বেচ্ছায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রুল জারি করে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সঠিক তথ্য এবং নিষ্পত্তি করার জন্য আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে সুয়োমোটো রুল জারির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে প্রতিকার দিয়ে থাকে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।অতএব বলা যায়, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগের বিশেষ ভূমিকা আছে। নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান করা আদালত বা বিচার বিভাগের কাজ।