উদ্দীপকের আলোকে ধর্মনিরপেক্ষতার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকে সংবিধানের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হচ্ছে চারটি। সেগুলো হচ্ছে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা : ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানের ১২নং অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছিল। মূল সংবিধানে বলা হয়েছিল যে, বাংলাদেশে কোনো বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। জনগণের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ধর্মের অপব্যবহার বিলোপ করা হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচার করতে পারবে। কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির প্রতি বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বা তার প্রতি কোন বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না। ২০১১ সালে প্রণীত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে যে, 'ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য ১. সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, ২.রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, ৩. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার ৪.কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন, বিলোপ করা হইবে'। ধর্ম নিরপেক্ষতা ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের প্রাথমিক সংবিধানের চারটি প্রধান মূল ভিত্তির মধ্যে একটি।ধর্ম নিরপেক্ষতা ভিত্তিটি ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সংবিধান থেকে সরিয়ে ফেলেন যা পুনঃস্থাপন করেন " পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র উপর " দ্বারা এবং ১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আদালতধর্ম নিরপেক্ষতাকে সংবিধানের একটি মূল মতবাদ হিসাবে পুনঃস্থাপন করেন। তবে ইসলাম রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে বহাল ছিল।বাংলাদেশর ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ মুসলিম,বাকি অংশ হচ্ছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য।বছরজুড়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের ধর্ম নিরপেক্ষ অনুষ্ঠান উৎযাপন করে। দক্ষিণ এশিয়ার ধর্ম নিরপেক্ষতা পশ্চিমা দের থেকে অনেক ক্ষেত্রেই পৃথক যেখানে তারা নিশ্চিতভাবে রাষ্ট্র এবং উপাসনালয়কে পৃথক অবস্থায় রাখে। এর পরিবর্তে এখানে কোন রাষ্ট্র বা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের স্বীকার না হয়ে যেকোনো ধর্ম চর্চা করা একটি ব্যক্তির স্বাধীনতা । স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো নিয়মনীতি ছিল না। হয় ব্রিটিশ, নয়তো পাকিস্তান এই দুই নীতিতেই চলেছে, কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র ১০ মাসেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধান রচনা করে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর শব্দ উপহার দেন, যার নাম 'ধর্মনিরপেক্ষতা'। বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিল। যদি আমরা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ হতে শুরু করে আধুনিক যুগের দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো বাঙালি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসই শুধু করে না তারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে পছন্দও করে। সাম্প্রদায়িক চিন্তা কখনোই মানুষের সঙ্গে মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে দেয় না। কেবলই মানুষের সঙ্গে মানুষের বিভেদ সৃষ্টি করে, দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। একটি রাষ্ট্র যখন গঠিত হয়, তখন সেখানে নানা সম্প্রদায়ের লোক এসে ভির জমায়। এই নানা সম্প্রদায়ের ভাব-ভাষা-সংস্কৃতিও হয় নানা রকমের। আর এজন্যই পৃথিবীর প্রায় সকল রাষ্ট্রেই বর্ণিল সংস্কৃতি দেখা যায়। এই বহুবর্ণতাই রাষ্ট্রের প্রাণ। ওই বহুবর্ণতা চাই বলেই আমরা ক্রসেড কিংবা জেহাদ চাই না, আল-কায়েদা কিংবা বকোহারাম চাই না, চাই না তালেবান কিংবা আইএস-আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের মতো ভয়ঙ্কর জঙ্গী সংগঠন। ধর্মনিরপেক্ষতা এই বহুবর্ণ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রেখে রাষ্ট্রীয় ঐক্য বা ভৌগোলিক ঐক্য টিকিয়ে রাখে।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে ধর্মনিরপেক্ষতার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
রাজশাহী কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর