উদ্দীপকের যে বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে তার বর্ণনা দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে তা হলো বাংলাদেশ সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ। নিম্নে বর্ণনা দেওয়া হলো: মৌলিক অধিকার হচ্ছে রাষ্ট্র প্রদত্ত সেসব সুযোগ-সুবিধা যা নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য। নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভার বিকাশের জন্য মৌলিক অধিকার একান্ত প্রয়োজনীয়। সংবিধানের সংশোধন কিংবা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা যায় না। মৌলিক অধিকার সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকায় এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হয়। সুতরাং মৌলিক অধিকার হচ্ছে নাগরিক জীবনের ও ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে বিকাশের জন্য সেসব অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম সংবিধানে সন্নিবেশিত এবং স্বরকারের পক্ষে অলঙ্ঘনীয়। বাংলাদেশ সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ : ১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা: সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ২. ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্যহীনতা: কেবল ধর্ম, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। জনগণের কোনো বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোনো নাগরিককে কোনোরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না। তবে রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারবে। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। ৩. সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা: প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে নাগরিকদের প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের সুযোগের সমতার ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না। ৪. উপাধি, সম্মান ও ভূষণের বিলোপসাধন: রাষ্ট্রপতির পূর্ব-অনুমোদন ব্যতীত কোনো নাগরিক বিদেশি রাষ্ট্রের নিকট থেকে কোনো খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবে না। তবে সাহসিকতার জন্য পুরস্কার বা একাডেমিক পুরস্কার গ্রহণের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। ৫. আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার: আইনের আশ্রয় লাভ করার অধিকার বাংলাদেশের সকল নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার। এজনা আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে এরূপ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। ৬. জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার: রক্ষণ আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। ৭. গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ: গ্রেপ্তারকৃত কোনো ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যাবে না। কোনো ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শ ও তার দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হতে বঞ্চিত করা যাবে না। গ্রেপ্তারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে হাজির করা হবে এবং আদালতের আদেশ ব্যতীত তাকে উক্ত সময়ের অধিককাল আটক রাখা যাবে না। তবে কোনো বিদেশি শত্রুর ক্ষেত্রে এবং নিবর্তনমূলক আইনে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপরোক্ত কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না। ৮. জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ: সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ এবং এ বিধান কোনোভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। ইত্যাদি।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের যে বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে তার বর্ণনা দাও।
উদ্দীপক
রাজশাহী কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর