উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতার তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থাৎ সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতার তাৎপর্য অপরিসীম।সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য লিখিত বা অলিখিত বিধি-বিধানের সমষ্টি। একটি রাষ্ট্রের সংবিধানে শাসকের ক্ষমতা, শাসিতের অধিকার ও কর্তব্য এবং উভয়ের সম্পর্কের প্রকৃতি সুস্পষ্টরূপে লেখা থাকে। বাংলাদেশের শাসন পরিচালনার জন্যও ১৯৭২ সালে একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। এ সংবিধানে চারটি মূলনীতির কথা বলা হয়েছে। যেমন-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে। এ নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে কোনো বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। এখানে জনগণের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ধর্মের অপব্যবহার বিলোপ করা হবে। এ দেশে বসাবাসরত প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচার করতে পারবে। এক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বীকে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যাবে না বা তার প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। মোটকথা, সমাজজীবন থেকে সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতার অবসান ঘটিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজব্যবস্থা কায়েম করাই হবে এ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতার তাৎপর্য অপরিসীম। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল মানুষ সমান সুযোগ সুবিধা লাভ করে এবং কারও প্রতি কোনোরূপ ধর্মকেন্দ্রিক বৈষম্য করা হয় না।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতার তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।
Chittagong · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর