উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গ্রামীণ সমস্যা দূরীকরণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তথা জনপ্রতিনিধি তৈরি করার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ব্যাপক কাজ পরিচালনা করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ করে। কৃষির উন্নয়নের জন্য উন্নতমানের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ ও অধিক খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করে এবং মৎস্য চাষ, পশুপালন ও পশুসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে। শিক্ষা বিস্তার ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বয়স্ক শিক্ষাদান কেন্দ্র ও লাইব্রেরি স্থাপন করে। তাছাড়া সংবাদ সরবরাহ ও প্রচার নিবন্ধীকরণ এবং ই-গভার্ন্যান্স চালু ও উৎসাহিত করণেও ভূমিকা রাখে। জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কুটির শিল্প স্থাপন ও সমবায় আন্দোলন পরিচালনা এবং এ ব্যাপারে জনগণকে উৎসাহিত করে। নিজ অফিসের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর ধার্য ও আদায়ে সরকারকে সহায়তা করে। জন্ম-মৃত্যু ও বিবাহ রেজিস্ট্রি এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে। সর্বোচ্চ পাঁচ (০৫) হাজার টাকা মূল্যের দেওয়ানি ও ছোটখাটো ফৌজদারি মামলার বিচারও ইউনিয়ন পরিষদ করতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, স্থানীয় উন্নয়নে বিশেষ করে পল্লি এলাকার উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।