জনাব রফিকের প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের স্বার্থে বহুবিধ কাজ করে থাকে। তবে এই কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠান কিছু সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। আমরা জানি, বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সর্বনিম্ন স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ। জনবহুল গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ দুই ধরনের কাজ করে। যেমন: ১. মৌলিক কাজ, ২. উন্নয়নমূলক কাজ। ইউনিয়ন পরিষদের মৌলিক কাজের মধ্যে রয়েছে গ্রামাঞ্চলে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এ উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরির কার্যকাল ও শর্তাবলি নির্ধারণ করে। এ সংস্থাটি ইউনিয়নে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তাদের কর আদায় ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে সাহায্য করে। সরকারের নীতি বা কর্মসূচি জনগণকে জানানোও ইউনিয়ন পরিষদের কাজ। ইউনিয়নে কোনো অপরাধ ঘটলে এ প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশকে জানায়। অপরাধ নিরোধ সংক্রান্ত ব্যাপারে সরকারকে সহযোগিতাও করে। ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচারকাজও ইউনিয়ন পরিষদ করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণার্থে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও করে। যেমন: রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, পার্ক, পুকুর, কবরস্থান, ইত্যাদি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। এছাড়া জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, দুর্যোগের সময় সেবামূলক কাজ এবং নিরাপত্তামূলক কাজ করাও ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত। আবার বৃক্ষরোপণ, কৃষি-শিল্পের উন্নয়ন সাধন, বিনোদন ও শিক্ষামূলক বিভিন্ন ধরনের কাজও ইউনিয়ন পরিষদ করে থাকে। জনগণের কল্যাণে কাজ করা হলেও কখনো কখনো ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলি কিছু সীমাবদ্ধতার শিকার হয়। যেমন- সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনগণ যদি অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের হয় তাহলে চেয়ারম্যান যতোই আন্তরিক হোক না কেন, তার পক্ষে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সভলভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হবে না। ইউনিয়ন পরিষদের আরেকটি বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা হলো- নিজস্ব পর্যাপ্ত জনবল না থাকা। এছাড়া পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সচিব ও চৌকিদারদের বেতন বা সম্মানী নামমাত্র হওয়ায় তাদের মধ্যে সার্বক্ষণিক কাজ করার আগ্রহ খুবই কম। তাছাড়া করের পরিমাণ কম হওয়ায় পরিষদের নিজস্ব আয়ও তেমন নেই। উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ উন্নয়নে বহুবিধ কার্য সম্পাদন করলেও তার অনেক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।