উদ্দীপকের 'খ' শাসন ব্যবস্থা দ্বারা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়। গণতন্ত্রের বিকাশে 'খ' শাসন ব্যবস্থা তথা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এমন এক শাসন ব্যবস্থা যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা গৌণ, জনগণের প্রতিনিধিদের ভূমিকাই মুখ্য। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত দ্বারা পরিচালিত শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়। বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের উদাহরণ। আমরা জানি, গণতন্ত্র বলতে মূলত জনগণের শাসনকে বোঝায়, যা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন দ্বারা প্রতিফলিত হয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে জনগণ সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধানে জনগণের সম্পৃক্ত হওয়ায় সুযোগ থাকায় স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে যা গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করে।যেহেতু স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হয় সেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চার ফলে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মূল লক্ষ্য স্ব-শাসন, যার ফলে জনগণ পরবর্তীতে বৃহত্তর শাসন ব্যবস্থায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। এছাড়াও স্থানীয় জনগণের মনে গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতি আস্থা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়।উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, 'খ' তথা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।