হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত স্থানীয় সংস্থা তথা সিটি কর্পোরেশন শহরের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত একটি সংস্থা। মোট ২৫ জন সদস্য নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। যদিও সিটি কর্পোরেশন আয়তন এবং জনসংখ্যার পার্থক্যের জন্য এর সদস্যসংখ্যার তারতম্য হতে পারে। কিন্তু সদস্যসংখ্যা যাই হোক না কেন, এরা সম্মিলিতভাবে জনকল্যাণে ভূমিকা রাখেন।মহানগর এলাকার উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণে সিটি কর্পোরেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহানগরীর জনজীবনকে নিরাপদ রাখার জন্য সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে। সিটি কর্পোরেশন মহানগর এলাকায় পচা-বাসি ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় ও সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মহানগর এলাকায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, গবাদি পশু রেজিস্ট্রিকরণ, বিপজ্জনক পশু আটক ও হত্যা, পশুর মৃতদেহ অপসারণ, হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন ইত্যাদি কাজ করে।মহানগরীর গরিব-দুঃখী মানুষকে সাহায্য করা, অনাথ আশ্রম ও জনকল্যাণমূলক কেন্দ্র স্থাপন, ভিক্ষাবৃত্তি ও পতিতাবৃত্তি রোধ ও পুনর্বাসন, জুয়াখেলা, মাদকাসক্তি ও অসামাজিক কাজ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে।মহানগরীর নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র, নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করে। শিক্ষাবিস্তারের জন্য নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার নির্মাণ ও পরিচালনা ইত্যাদি কাজ করে। সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তন, আর্ট-গ্যালারি, তথ্যকেন্দ্র, জাদুঘর, মুক্তমঞ্চ ইত্যাদি নির্মাণ করে।সিটি কর্পোরেশন মহানগর এলাকায় ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি প্রদান করে। অননুমোদিত ঘরবাড়িসহ সকল স্থাপনা ভেঙে দেয় এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের ব্যবস্থা করে। এসবগুলো কাজই জনকল্যাণমূলক। মেয়র কিংবা কাউন্সিলর এককভাবে এ কাজ করতে পারেন না। তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এসব কার্যাবলি সম্পন্ন হয়। জনকল্যাণে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়।