"উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির তথা বাংলাদেশে সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকার ওপর রাষ্ট্রের উন্নয়ন নির্ভরশীল"- উক্তিটি যথার্থ।বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি সাংবিধানিক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান, যা প্রজাতন্ত্রের জন্য যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন ও নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গ্রহণ, রাষ্ট্রপতিকে নীতিগত পরামর্শ প্রদান, বদলি ও পদোন্নতির নীতি নির্ধারণসহ প্রশাসনিক জনবল ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কর্মকমিশনের এ ধরনের কার্যক্রম অর্থাৎ নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে প্রশাসনকে দক্ষভাবে পরিচালনায় সহায়তা করে, যা রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। এ কমিশনের কাজের ওপর মেধাভিত্তিক নিয়োগ হয় ফলে প্রশাসনে দক্ষতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। নিরপেক্ষতার কারণে যোগ্যরা সমান সুযোগ পায় এবং গোপনীয়তার মাধ্যমে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রতিরোধ হয়। রাষ্ট্রপতিকে যোগ্যতা, নিয়োগ পদ্ধতি, শৃঙ্খলা ও অবসরভাতা বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জনবল নীতিকে ন্যায়সংগত রাখে। বার্ষিক রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত হয় এবং সাংবিধানিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেয়। এসব কারণে নীতি প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত দক্ষ জনবল নিশ্চিত হয়, যা প্রশাসনিক গতি ও সেবার মান বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এর স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা যত বজায় থাকবে; রাষ্ট্রের অগ্রগতি ও সুশাসন ততই নিশ্চিত হবে।