উক্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ সরকারি কর্মকমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার উপর দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা নির্ভর করে - উক্তিটি যথার্থ। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের প্রধান কর্তব্য হলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কাজের লোক নিয়োগ করা। এক্ষেত্রে কর্মকমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার নীতি অবলম্বন করে। কর্ম কমিশন এ কাজ করতে যে প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির নীতি অবলম্বন করে তা হলো- ১. প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা; ২. লিখিত পরীক্ষা, ৩. মৌখিক পরীক্ষা, ৪. ডাক্তারি পরীক্ষা এবং ৫. পুলিশ তদন্ত। এ পদ্ধতিরগুলো সৎ, যোগ্য ও মেধাবীব প্রার্থী বাছাই এর গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে। আরে পদ্ধতিগুলো যথাযথ ভাবে অনুসরণ করে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারি কর্ম কমিশন। কর্মকমিশন সৎ,যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে। আর এ সকল কর্মকান্ডের প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা অবলম্বন করা হলে অবশ্যই দেশবাসী সৎ, যোগ্য ও মেধাবী সরকারি কর্মকর্তা পাবে এবং দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু কর্ম কমিশন যদি কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে না পারে তাহলে দক্ষ কর্মকর্তাদের যতই বাছাই করা সম্ভব হবে না। কমিশন এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা হারালে দুর্বল প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে, যা জাতির জন্য অকল্যাণকর। আবার কমিশনের সদস্যদের সততা ও দক্ষতার অভাব গড়লে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ও অসৎ প্রার্থী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ প্রাপ্ত হবে। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা তাদের ন্যায্য অধিকার হতে বঞ্চিত হবেন। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ওপর দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারি কর্মকমিশনের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা এর মাধ্যমে একটি দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সুযোগ লাভ করে। সুতরাং সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার উপর দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা নির্ভর করে - উক্তিটি যথার্থ।