উদ্দীপকে উল্লিখিত জোট অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ২০০০ সালের ২২ মে ইইউ-এর সদর দপ্তর ব্রাসেলসে বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা এবং আর্থিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ইইউ এদেশকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে।বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী সমাজের উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতি ইইউ সবসময়ই যত্নশীল। বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, দারিদ্র্য বিমোচন প্রভৃতি বিষয়ে ইইউ বাংলাদেশে ব্যাপক সহায়তা করে থাকে। ইইউ বাংলাদেশের বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, মানব সম্পদ উন্নয়ন, ট্যারিফ ও ননট্যারিফ বাধা অপসারণ, তথ্য যোগাযোগ ও সংস্কৃতি খাতেও ব্যাপক অবদান রাখছে। এদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষার বিষয়গুলোতেও ইইউ অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তৈরি পোষাক শিল্পে বাংলাদেশ ইইউ- এর কাছ থেকে পাচ্ছে সর্বাধিক জিএসপি সুবিধা। উল্লেখ থাকে যে অস্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের সব পণ্যই ইইউ-এর কাছ থেকে জিএসপি সুবিধা পেয়ে থাকে। এছাড়া ইইউ-এর অন্তর্ভুক্ত দেশ সমূহে বহু বাংলাদেশিরা শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। এতে মানবসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এই বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইইউ-এর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই আন্তরিক।