বাংলাদেশে সংসদীয় তথা প্রতিনিধিত্বমূলক, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। এ ব্যবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করার গুরুদায়িত্ব নাগরিক তথা নির্বাচকমণ্ডলীর ওপর ন্যস্ত। বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী সর্বজনীন ভোটাধিকার নীতি স্বীকৃত। সর্বজনীন ভোটাধিকার বলতে রাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিকের নির্বাচনে ভোট দেওয়া ও পাওয়ার অধিকারকে বোঝায়। সকল নাগরিক যাতে রাষ্ট্রের ভালোমন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ বিচার বিবেচনায় অংশ নিতে পারে সেজন্য সকলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সংবিধানের ১২১ ও ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স্ক বাংলাদেশের সকল নাগরিক ধর্ম, জাত, বর্ণ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটাধিকারের সুযোগ পাবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকগণ যতবেশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে গণতন্ত্র তত বেশি সুদৃঢ় হবে। ভোটাধিকার নাগরিকের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক অধিকার। এ প্রসঙ্গে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস বলেন, "রাজনৈতিক অধিকারের মাধ্যমে মানুষ ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাসম্পন্ন হয়।” গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আদর্শ সমুন্নত রাখা, গণসার্বভৌমত্বের বিকাশ ঘটানো, জনমতের প্রতিফলন, সরকারের স্বৈরাচারিতারোধ, দক্ষ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্বাচনে নাগরিকের সক্রিয় ভূমিকা পালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।