আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত হয়েছে। আর নাগরিকগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের সার্বভৌম শক্তির প্রকাশ ঘটায়। তাই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে নির্বাচনে নাগরিক তথা নির্বাচকমণ্ডলীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকগণ তাদের গুরুত্ব ও ক্ষমতা বজায় রাখে। এজন্যই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গেটেলের মতো অনেকেই ভোটাধিকারপ্রাপ্ত নাগরিকদের সরকারের একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাগিরকের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। নির্বাচন তথা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার ফলে নাগরিকের ক্ষমতায়ন হয়। রাষ্ট্রের নাগরিকগণ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে নিজেদের যোগ্য ও সৌভাগ্যবান মনে করে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রাপ্তি নাগরিকদের ক্ষমতায়নের পথ সুগম করে। আবার, নাগরিকগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ফলে জাতির নেতা নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক নেতা নির্বাচনের উপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। অন্যদিকে, নির্বাচনে সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই সরকার ও জনগণের মধ্যে এক সেতুবন্ধন রচিত হয়। জনগণের ইচ্ছা, চাহিদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে নির্বাচনের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে সরকারের কার্যাবলির উপর সার্বিক উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। আর সরকারের সদস্যদের নির্বাচনে যেহেতু নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করে, সেহেতু নাগরিকের সচেতনভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত। সুতরাং নির্বাচনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।