উদ্দীপকে কোন আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে? উক্ত আন্দোলনের প্রেক্ষাপট লেখ।
উত্তর: উদ্দীপকে যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে সেটি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের দ্রুত সংবিধান রচনার দাবি ওঠে। পূর্ব বাংলার পক্ষ থেকে এ দাবি ছিল আরো জোরালো। পূর্ব বাংলার জনদাবী ছিল নতুন সংবিধানের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন যেন অর্জিত হয়। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি ক্ষমতাশীল মুসলিম লীগ সরকার পূর্ব বাংলাকে উপনিবেশে করতে চাইল।প্রথম অবস্থার নতুন রাষ্ট্রপতি পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে ভারত শাসন আইন দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে। ১৯৪৬ সালে ঘটক পরিষদ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পাকিস্তান গণপরিষদ গঠিত হয় যার দায়িত্ব ছিল কেন্দ্রীয় আইনসভা হিসেবে কাজ করা ও নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অনহার গণপরিষদের কাজ অব্যাহত হতে থাকে। ১৯৪৯ সালে যখন সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গণপরিষদ কর্তৃক মূলনীতি কমিটি গঠন করা হয়, তখনো পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি থেকে নগণ্য এবং সুদীর্ঘ ১৮ মাস পর যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় তাতে পূর্ব বাংলার জনগণকে বঞ্চিত করা হয়। নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে?এ প্রশ্ন দেখা গিয়েছিল ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির শুরুতেই। সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ও বুদ্ধিজীবীরাও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন। তখনই ড. মোঃ শহীদুল্লাহ সহ বাংলার বুদ্ধিজীবী লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কাসেমের নেতৃত্বে তমুদ্দিন মজলিস গঠিত হয়। এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রধান সংগঠন। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ যার আহ্বায়ক মনোনীত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঁইয়া। ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকে শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ২ মার্চ ১৯৪৮ দেশের ছাত্র সমাজ বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে নতুন কমিটি আহবানে ১১ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তিতে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষার মাধ্যমে বাংলা, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব আইন পরিষদে উপস্থাপন প্রগতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ ও ২৪ মার্চ ভিন্ন দুটি অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার দিলে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলার দাবিতে আন্দোলন বেগবান করে। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করে।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে কোন আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে? উক্ত আন্দোলনের প্রেক্ষাপট লেখ।
উদ্দীপক
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর