উদ্দীপকের আলোকে মিতু বানুর শেষের বক্তব্যটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের আলোকে মিতু বানুর শেষের বক্তব্যটি হলো, 'উক্ত চেতনা থেকেই ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং পরবর্তীতে স্বাধীন পূর্বাশা রাষ্ট্রের জন্ম হয়। স্বাধীন পূর্বাশা রাষ্ট্র বলতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে বুঝানো হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মন্তব্যটি যথার্থ। ভাষা আন্দোলন ছিল পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম সর্বজনীন আন্দোলন। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং বাঙালি নবচেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানি শাসকদের ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দেয় এবং তারা বাঙালিদের সমীহ করতে শেখে। ভাষা আন্দোলন যদিও একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল, তথাপি এ আন্দোলন রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টি করে এবং এদেশের জনগণকে অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের শিক্ষা দেয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষা আন্দোলন বাঙালির মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটায় যা, ভবিষ্যৎ আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণে অনুপ্রেরণা জোগায়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতা আন্দোলনে আমরা জয়লাভ করি। ভাষা আন্দোলন যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টি করেছিল। তার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করার প্রেরণা পায়। অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা থেকেই এদেশের জনগণ অন্য আন্দোলনগুলোকে সফল করেছিল। এমনকি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, ভাষা আন্দোলন বাঙালির মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়। যা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনুপ্রেরণা হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে মিতু বানুর শেষের বক্তব্যটি ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
রাজশাহী কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর