শেয়ারFacebookWhatsApp

"পরবর্তীতে ওই অঞ্চলটি এই কর্মসূচির আলোকেই স্বাধীন হয়"- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বাঙালি বীরের জাতি। অধিকার আদায়ে এ জাতি সব সময়ই ছিল আপসহীন। যুগ যুগ ধরে শাসকগোষ্ঠীর যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম, অত্যাচার, অবিচার, শোষণ, নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার থেকেছে। ক্ষমতাবলে দুর্বল হলেও তারা ব্রিটিশদের সামনেও কখনো মাথা নত করেনি। পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠীর দুঃশাসন, অন্যায়, অনিয়ম, অত্যাচার, নির্যাতনে জর্জরিত বাঙালি দৃঢ়কন্ঠে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে। ১৯৫২'র হার না মানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে নিজেদের মাতৃভাষার অধিকার। একের পর এক ন্যায্য প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছে স্বাধিকার আন্দোলনের দিকে। এ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাকে চিরতরে স্বাধীন করার বীজ বপন করা হয় ১৯৬৬ সালের ছয় দফার দাবী উত্থাপনের মধ্যে দিয়ে। আর এ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উত্থাপিত ছয় দফা দাবী বাঙালী জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তিস্তম্ভ স্বরূপ। ছয় দফাকে বাঙালীর 'ম্যাগনা কার্টা' বা 'মুক্তির সনদ' বলে অভিহিত করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের শিকার বাঙালি জাতি 'ছয় দফা দাবি' উত্থাপনের মধ্য দিয়ে পেয়েছিল নতুন এক ভোরের দেখা। পেয়েছে বর্তমানের লাল-সবুজের বাংলাদেশ। ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন। ৪ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছান এবং তার পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এ দাবি উত্থাপনের জন্য ৬ ফেব্রুয়ারীর পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসাবে অভিহিত করা হয়। ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেলরাষ্ট্র, ছয় দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে এই ফেডারেলরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে । ছয়দফা কর্মসূচীর ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব । পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার হয়। ১৯৬৬ সালে প্রণীত ছয় ছফার দাবি সমূহকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচি ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সমস্যাবলির নিয়মতান্ত্রিক সমাধানের লক্ষ্যে প্রণীত একটি বাস্তবায়নযোগ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি। ছয় দফা আন্দোলনের মধ্যেই আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বীজ রোপিত ছিল। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে এই ছয় দফা আন্দোলন এতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো যে, এ জন্য ছয় দফাকে 'ম্যাগনা কার্টা' বা 'বাঙালি মুক্তির সনদ' বলে অভিহিত করা হয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় সমৃদ্ধ বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলে সেদিন বারি সিঞ্চন করেছিল ছয় দফা কর্মসূচি। ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে একটি আন্দোলনে রূপদান করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার ফসলই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। ছয় দফা কর্মসূচি নিরাশার অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত বাঙালি জাতিকে সংগ্রামের শক্তি যুগিয়েছিল। প্রেরণা যুগিয়েছিল স্বৈরাচারী ও গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। সরকার এ আন্দোলন দমনে যতই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছিল, আন্দোলন ততই দ্রুত দানা বাঁধতে থাকে। বাঙালি জাতীয়তাবাদও ততই সংহত রূপ লাভ করতে থাকে। ছয় দফা কর্মসূচিভিত্তিক আন্দোলন সর্বপ্রথম এদেশে গণমুখী আন্দোলন গড়ে তোলে। বাঙালি জনগণ ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সরকারের সাথে আপসহীন লড়াই চালানোর শিক্ষা গ্রহণ করে। বাঙালি জনগণ ছয় দফাভিত্তিক স্বাধিকার আন্দোলনের সিঁড়ি সেশ্য ধীরে ধীরে ১৯৬৯ সালে ব্যাপক গণ-আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে জয়যুক্ত হয়। পরিশেষে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রগতির ইতিহাস তথা স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৬ দফা কর্মসূচির ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। ৬ দফা এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি মাইলফলক। ৬ দফা ছিল একটি সুচিন্তিত কর্মসূচি। এটি ছিল বাঙালির মুক্তি সনদ, বাঙালির ম্যাগনাকার্টা।

HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল

"পরবর্তীতে ওই অঞ্চলটি এই কর্মসূচির আলোকেই স্বাধীন হয়"- উদ্দীপকের আল…

উদ্দীপক

দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একটি অঞ্চলের জনগণের মধ্যে আশা জেগেছিল যে এবার তাদের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। কিন্তু অচিরেই অর্থনৈতিক শোষণ, সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ও রাজনৈতিক বঞ্চনার কারণে তাদের হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের এক পর্যায়ে সঙ্গেলহনী নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন এক ব্যক্তিত্ব জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাধিকারের কথা চিন্তা করে কয়েকটি দফার সমন্বয়ে একটি অনন্য কর্মসূচি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ৩০ অঞ্চলটি এই কর্মসূচির আলোকেই স্বাধীন হয়।

রাজশাহী কলেজ · 2024

উত্তর

যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের প্রতীক ছিল নৌকা।

উত্তর

দ্বি জাতি তত্ত্ব হলো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষিত ' হিন্দু - মুসলমান দুটি পৃথক জাতী ' এ দ্বি-জাতি তত্ত্ব বা নীতির ভিত্তিতে জিন্নাহ মুসলমানদের যে পৃথক জাতিসত্তার দাবি করে তাই দ্বিজাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত বা যাকে দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষিত দ্বিজাতি তত্ত্বই পাকিস্তানের মূল্য ভিত্তি। 'এক জাতি -এক রাষ্ট্র' এ মতবাদ বিষ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করতে থাকে। দ্বি জাতি তত্ত্ব : ১৯৩৭ সালে ভারত স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হলেও মুসলমানরা উপেক্ষিত হতে থাকে। এমন অবস্থায় ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতি ভাষণে মুসলমান ও হিন্দুদের জাতিসত্তা সম্পর্কে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেন তাই দ্বিজাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে উক্ত সম্মোহনী নেতা করতে ঘোষিত কর্মসূচিটি হলো ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর শুরু হয় পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ-বঞ্চনা ও নির্যাতন। ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলে বৈষম্য। পূর্ব পাকিস্তান ধীরে ধীরে পশ্চিম পাকিস্তানি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের জন্য কাঁচামালের যোগানদাতা একটি কলোনি বা উপনিবেশে পরিণত হয়। যে গুটিকয়েক শিল্প-কারখানা পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার মালিকও ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি শিল্পপতিগণ। এসব শিল্প-কারখানা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বা পুঁজি তাঁরা পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করতেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ দেখা দিলে পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সামরিক দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের এ অসহায় অবস্থা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি' পেশ করেন। এরপর তিনি তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে জনমত সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হন। এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন। ছয় দফা কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জনগণ কর্তৃক সমাদৃত হয়। ৬ দফা কর্মসূচি নিম্নরূপ: ১. ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করতে হবে। পাকিস্তানে সত্যিকার যুক্তরাষ্ট্রীয় ভোটে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনসভায় জনসংখ্যানুপাতে প্রতিনিধিত্ব থাকবে। পূর্ব পাকিস্তানের ২. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে কেবল দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে প্রদেশ বা অঙ্গ রাজ্যগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। ৩. দেশের দু অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা দেশের দু অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে এক্ষেত্রে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা ও মূলধন ও অঞ্চলের জন্য একই না পারে। ৪. সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে। ৫. বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্য সম্পর্কে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যের সরকারগুলো আলাপ-আলোচনা ও চুক্তি করতে পারবে। ৬. আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো 'আধা-সামরিক বাহিনী' বা মিলিশিয়া' রাখতে পারবে। পরিশেষে, আন্দোলনের মূল এজেন্ডা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা পূর্ব পাকিস্তানের কথিত শোষণের অবসান ঘটাতে 1966 সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলগুলির একটি জোটের দ্বারা পেশ করা ছয়টি দাবি উপলব্ধি করা। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

উত্তর

বাঙালি বীরের জাতি। অধিকার আদায়ে এ জাতি সব সময়ই ছিল আপসহীন। যুগ যুগ ধরে শাসকগোষ্ঠীর যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম, অত্যাচার, অবিচার, শোষণ, নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার থেকেছে। ক্ষমতাবলে দুর্বল হলেও তারা ব্রিটিশদের সামনেও কখনো মাথা নত করেনি। পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠীর দুঃশাসন, অন্যায়, অনিয়ম, অত্যাচার, নির্যাতনে জর্জরিত বাঙালি দৃঢ়কন্ঠে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে। ১৯৫২'র হার না মানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে নিজেদের মাতৃভাষার অধিকার। একের পর এক ন্যায্য প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছে স্বাধিকার আন্দোলনের দিকে। এ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাকে চিরতরে স্বাধীন করার বীজ বপন করা হয় ১৯৬৬ সালের ছয় দফার দাবী উত্থাপনের মধ্যে দিয়ে। আর এ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উত্থাপিত ছয় দফা দাবী বাঙালী জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তিস্তম্ভ স্বরূপ। ছয় দফাকে বাঙালীর 'ম্যাগনা কার্টা' বা 'মুক্তির সনদ' বলে অভিহিত করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের শিকার বাঙালি জাতি 'ছয় দফা দাবি' উত্থাপনের মধ্য দিয়ে পেয়েছিল নতুন এক ভোরের দেখা। পেয়েছে বর্তমানের লাল-সবুজের বাংলাদেশ। ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন। ৪ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছান এবং তার পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এ দাবি উত্থাপনের জন্য ৬ ফেব্রুয়ারীর পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসাবে অভিহিত করা হয়। ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেলরাষ্ট্র, ছয় দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে এই ফেডারেলরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে । ছয়দফা কর্মসূচীর ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব । পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার হয়। ১৯৬৬ সালে প্রণীত ছয় ছফার দাবি সমূহকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচি ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সমস্যাবলির নিয়মতান্ত্রিক সমাধানের লক্ষ্যে প্রণীত একটি বাস্তবায়নযোগ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি। ছয় দফা আন্দোলনের মধ্যেই আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বীজ রোপিত ছিল। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে এই ছয় দফা আন্দোলন এতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো যে, এ জন্য ছয় দফাকে 'ম্যাগনা কার্টা' বা 'বাঙালি মুক্তির সনদ' বলে অভিহিত করা হয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় সমৃদ্ধ বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলে সেদিন বারি সিঞ্চন করেছিল ছয় দফা কর্মসূচি। ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে একটি আন্দোলনে রূপদান করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার ফসলই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। ছয় দফা কর্মসূচি নিরাশার অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত বাঙালি জাতিকে সংগ্রামের শক্তি যুগিয়েছিল। প্রেরণা যুগিয়েছিল স্বৈরাচারী ও গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। সরকার এ আন্দোলন দমনে যতই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছিল, আন্দোলন ততই দ্রুত দানা বাঁধতে থাকে। বাঙালি জাতীয়তাবাদও ততই সংহত রূপ লাভ করতে থাকে। ছয় দফা কর্মসূচিভিত্তিক আন্দোলন সর্বপ্রথম এদেশে গণমুখী আন্দোলন গড়ে তোলে। বাঙালি জনগণ ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সরকারের সাথে আপসহীন লড়াই চালানোর শিক্ষা গ্রহণ করে। বাঙালি জনগণ ছয় দফাভিত্তিক স্বাধিকার আন্দোলনের সিঁড়ি সেশ্য ধীরে ধীরে ১৯৬৯ সালে ব্যাপক গণ-আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে জয়যুক্ত হয়। পরিশেষে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রগতির ইতিহাস তথা স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৬ দফা কর্মসূচির ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। ৬ দফা এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি মাইলফলক। ৬ দফা ছিল একটি সুচিন্তিত কর্মসূচি। এটি ছিল বাঙালির মুক্তি সনদ, বাঙালির ম্যাগনাকার্টা।
HSCCivics 2nd Paper
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — উত্তর ও ব্যাখ্যা লকড

1.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিন্মোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:মানুষের সীমাহীন লোভ, আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার বাসনা, প্রবল উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি কারণে দুর্নীতি সমাজ ব্যবস্থায় প্রসার লাভ করছে।Q. দুর্নীতি প্রতিরোধে কোনটি কার্যকর ভূমিকা রাখে না?

Dinajpur · 2017

  • জনসচেতনতা
  • গণ নিরবতা
  • আইনের যথাযথ প্রয়োগ
  • সাধীন বিচার ব্যবস্থা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিন্মোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:মানুষের সীমাহীন লোভ, আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার বাসনা, প্রবল উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি কারণে দুর্নীতি সমাজ ব্যবস্থায় প্রসার লাভ করছে।Q. দুর্নীতির মাধ্যমে
i. আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করে না
ii. বিচার ব্যবস্থা কলুষিত হয়
iii. ভূমি ব্যবস্থনায় ধস নামেনিচের কোনটি সঠিক?

Dinajpur · 2017

  • i ও ii
  • i ও iii
  • ii ও iii
  • i, ii, ও iii

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.বিশ্বের শতকরা কতভাগ মানুষ প্রতিবন্ধীতার সমস্যায় আক্রান্ত?

Dinajpur · 2017

  • ১০
  • ১২
  • ১৪
  • ১৬

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.কমনওয়েলথের বৈশিষ্ট্য হলো এর সদস্যগুলো-
i. স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র
ii. কোনো সামরিক জোটের সদস্য নয়
iii. একসময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশনিচের কোনটি সঠিক?

Dinajpur · 2017

  • i ও ii
  • i ও iii
  • ii ও iii
  • i, ii, ও iii

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.SAFTA এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে
i. বাণিজ্য শুল্ক হ্রাস
ii. অবাধ বাণিজ্য এলাকা গঠন
iii. ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য এলাকা গড়ে তোলানিচের কোনটি সঠিক?

Dinajpur · 2017

  • i ও ii
  • i ও iii
  • ii ও iii
  • i, ii, ও iii

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল বৈশিষ্ট্য কোনটি নয়?

Dinajpur · 2017

  • সমঝোতা ও সহযোগিতা
  • বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা
  • জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও উদারনীতি
  • অন্য দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য সর্ববৃহৎ মুসলিম সংগঠনটির নাম কী?

Dinajpur · 2017

  • ও.আই.সি
  • ওপেক
  • ই.ইউ
  • ও.এ.ইউ

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন ন্যূনপক্ষে কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হতে পারে?

Dinajpur · 2017

  • ১২
  • ১৫

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.কোন সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়?

Dinajpur · 2017

  • দ্বাদশ
  • ত্রয়োদশ
  • চতুর্দশ
  • পঞ্চদশ

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিন্মোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারের জন্য সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তিনি জেলে কাটিয়েছেন। তার এই ত্যাগের বিনিময়েই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।Q. স্বাধীনতা আন্দোলনের জাতীয়তাবাদী নেতা হিসাবে তিনি জাতির কাছে কীরূপ সম্মান লাভ করেন
i. জাতীয় নেতা
ii. জাতির পিতা
iii. জাতির বিবেকনিচের কোনটি সঠিক?

Dinajpur · 2017

  • i ও ii
  • i ও iii
  • ii ও iii
  • i, ii, ও iii

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিন্মোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারের জন্য সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তিনি জেলে কাটিয়েছেন। তার এই ত্যাগের বিনিময়েই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।Q. উদ্দীপকে বর্ণিত নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে বাংলাদেশের কোন নেতার তুলনা করা যায়?

Dinajpur · 2017

  • শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  • হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  • মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.'একজাতি একরাষ্ট্র' কোন তত্ত্বের মূলমন্ত্র?

Dinajpur · 2017

  • দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  • কৃষক-প্রজা তত্ত্ব
  • প্রজাস্বত্ব
  • স্বদেশী তত্ত্ব

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিন্মোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:মানুষের সীমাহীন লোভ, আত্মস্বার্নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিন্মোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:মানুষের সীমাহীন লোভ, আত্মস্বার্বিশ্বের শতকরা কতভাগ মানুষ প্রতিবন্ধীতার সমস্যায় আক্রান্ত?কমনওয়েলথের বৈশিষ্ট্য হলো এর সদস্যগুলো-i. স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রii. কোনো সামরিকSAFTA এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেi. বাণিজ্য শুল্ক হ্রাসii. অববাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল বৈশিষ্ট্য কোনটি নয়?ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য সর্ববৃহৎ মুসলিম সংগঠনটির নাম বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন ন্যূনপক্ষে কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হতে পারে?কোন সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়?নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিন্মোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতানিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিন্মোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা'একজাতি একরাষ্ট্র' কোন তত্ত্বের মূলমন্ত্র?

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।