উদ্দীপকের আলোকে উক্ত সম্মোহনী নেতা কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচি কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের আলোকে উক্ত সম্মোহনী নেতা করতে ঘোষিত কর্মসূচিটি হলো ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর শুরু হয় পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ-বঞ্চনা ও নির্যাতন। ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলে বৈষম্য। পূর্ব পাকিস্তান ধীরে ধীরে পশ্চিম পাকিস্তানি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের জন্য কাঁচামালের যোগানদাতা একটি কলোনি বা উপনিবেশে পরিণত হয়। যে গুটিকয়েক শিল্প-কারখানা পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার মালিকও ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি শিল্পপতিগণ। এসব শিল্প-কারখানা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বা পুঁজি তাঁরা পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করতেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ দেখা দিলে পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সামরিক দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের এ অসহায় অবস্থা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি' পেশ করেন। এরপর তিনি তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে জনমত সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হন। এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন। ছয় দফা কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জনগণ কর্তৃক সমাদৃত হয়। ৬ দফা কর্মসূচি নিম্নরূপ: ১. ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করতে হবে। পাকিস্তানে সত্যিকার যুক্তরাষ্ট্রীয় ভোটে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনসভায় জনসংখ্যানুপাতে প্রতিনিধিত্ব থাকবে। পূর্ব পাকিস্তানের ২. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে কেবল দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে প্রদেশ বা অঙ্গ রাজ্যগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। ৩. দেশের দু অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা দেশের দু অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে এক্ষেত্রে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা ও মূলধন ও অঞ্চলের জন্য একই না পারে। ৪. সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে। ৫. বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্য সম্পর্কে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যের সরকারগুলো আলাপ-আলোচনা ও চুক্তি করতে পারবে। ৬. আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো 'আধা-সামরিক বাহিনী' বা মিলিশিয়া' রাখতে পারবে। পরিশেষে, আন্দোলনের মূল এজেন্ডা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা পূর্ব পাকিস্তানের কথিত শোষণের অবসান ঘটাতে 1966 সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলগুলির একটি জোটের দ্বারা পেশ করা ছয়টি দাবি উপলব্ধি করা। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত সম্মোহনী নেতা কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচি কী? ব্যাখ্…
উদ্দীপক
রাজশাহী কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর